ঘুরে এলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মুন্না খান মুন:
তিন দিন ব্যাপী শিক্ষা সফরের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপ্লায়েড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইআইএএসটি)। ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফিশারীজ বিভাগের মোট ১৮ জন ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশ গ্রহণ করি। শিক্ষা সফরে ইনস্টিটিউটের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয় প্রফেসর ড. মো. সহিদুজ্জামান সবুজ স্যার ও ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব জুয়েল রানা ও প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস ম্যামের তত্তাবধায়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে যাওয়া হয়।

শিক্ষা সফর কার্যকর ও সফল করতে আগে থেকেই গঠিত হয় কয়েকটি কমিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮/০৩/২০১৮ ইং তারিখে, আইআইএএসটির মায়া ত্যাগ করার পর নিজেদের পরিপাটি করে মোড়ানো রুপ যেন দিলো ধরা, বাসের ভিতর শুরু হয় উৎসবের কলোরব। বাসের গতি বাড়ার সাথে সাথে নাচ গান আড্ডা আর হৈ হুল্লোর। সাথে সাথে নিজেদের স্মৃতি ধরে রাখতে চলে ফটো সেশন।

আমরা বিকাল ৫টায় পৌছালাম বাকৃবি তে আমরা সবাই ছিলাম গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (জি.টি.আই), অনেক সুন্দর পরিবেশ এই গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে। রাতে প্রশাসনিক ভবন ও কামাল-রণজিত (কে.আর) মার্কেট দেখলাম। পরের দিন থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু হলো।

সকাল ৯টায় আমরা গেলাম করিম ভবনে। সেখানে কৃষি রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল হান্নান স্যার আমাদের স্বাগতম জানালেন এবং আমাদের বিভিন্ন আধুনিক ল্যাবরেটরি দেখালেন এবং কাচা মরিচে বিদ্যমান ভিটামিন-সি এর পরিমানগত উপস্থিতি নির্ণয়ের ব্যবহারিক ক্লাস করালেন।

১২টায় গেলাম ফুড টেকনোলজি ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগে। বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আমাদের স্বাগতম জানালেন এবং ল্যাবে নিয়ে গেলেন। সেখানে প্রফেসর ড. মোঃ আনিছুর রহমান মজুমদার আমাদের জেলী প্রস্তুত প্রণালি শেখালেন।

তারপর আমরা গেলাম ভেটেরিনারি অনুষদের প্যারাসাইটোলজি বিভাগে। সেখানে প্রফেসর ড. মো. সহিদুজ্জামান সবুজ স্যার আমাদের স্বাগত জানান। স্যার আমাদের ডিএনএ নির্ণয়করন পদ্ধতি শেখালেন। এরপর প্রফেসর মুহাম্মদ হোসেন কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে আমরা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেখলাম। সেখানে জীবনের এক স্মরনীয় শিক্ষা পেয়েছি। কৃষি রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন চৌধুরী স্যার বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব ঘুরানোর ফাঁকে ফাঁকে আমাদের বিভিন্ন উপদেশ দিয়েছিলেন। স্যারের মুখে শোনা সেই কথা গুলো সবার সারাজীবন মনে থাকবে।

আমরা গিয়েছিলাম কৃষি যাদুঘরে যা বাকৃবিতে অবস্থিত দেশের প্রথম  কৃষি যাদুঘর। এখানে প্রাচীন ও আধুনিক চাষাবাদ এর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আছে। প্রাচীন চাষাবাদের যন্ত্রপাতি যেমন-হাল, কুলা, যাতা। আমারা গিয়েছিলাম জার্মপ্লাজম সেন্টারে, এখানকার পরিবেশ মনমুদ্ধকর। চারদিকে গাছের মেলা, সাথে নানান রকম পাখির ডাক ।সদ্য মাত্র লাগানো অনেক পলি চারা, আম গাছে মুকুল এসেছে, আমড়া গাছে ফল এসেছে, এখানে রয়েছে ১২০০ প্রজাতির বৃক্ষ।

গান, নাচ, কৌতুক আর অভিনয় নিয়ে বসেছিলাম ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। নদের পানির কল কল শব্দের সাথে চলে আমাদের নাচ, গান আর কৌতুক।

২০ তারিখের রাতের সেই স্মৃতি কোন দিন ভোলার নয়। সেই রাতে সাবাই বসেছিলাম সবুজ স্যারের বাসায়। স্যার আমাদের জন্য নিজ হাতে বানালেন বার-বি-কিউ। গরম গরম খাবারের সাথে আমাদের চলছে গান নাচ সাথে যোগ হয়েছে সবুজ স্যারের দুই মেয়ে। অনেক সুন্দর গান ও নাচ দেখালাম আমরা।

সারাদিন ক্লাস করা, তথ্য সংগ্রহ করা, রাত জেগে জেগে গ্রুপ করে পড়াশুনা, সাথে গান, নাচ. অভিনয় আর খেলাধুলা স্মৃতির পাতায় রয়ে যাবে আজীবন। জীবনে শিক্ষণীয় আনন্দক্ষন কখনো পাবো কি না জানি না কিন্তু বাকৃবিতে এসে কাটানো দিন গুলো স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে চির অম্লীন হয়ে।

__________________________________________
মুন্না খান মুন
শিক্ষার্থী, ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপ্লায়েড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, রংপুর।

 

 

Comments

comments