রাশিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের টুইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য সিরিয়াকে কড়া জবাব দেয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ এক টুইটে বলেছেন, রাশিয়া প্রস্তুত হও- কারণ যে মিসাইল আসবে আসবে তা হবে সুন্দর, নতুন ও বুদ্ধিমান। এদিকে রাশিয়া ওই গ্যাস হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

৭ এপ্রিল সিরিয়ার ইস্টার্ন ঘৌতার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দুমায় রাসায়নিক গ্যাস হামলায় শ্বাসকষ্টে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্টে ভুগছে কয়েক শ মানুষ। এই রাসায়নিক হামলার জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্য রাশিয়া গ্যাস হামলার অভিযোগ বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদও ওই রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করেছেন।

টুইটে আসাদকে ‘গ্যাস কিলিং এনিমেল’ হিসেবে আখ্যা ট্রাম্প আরো লিখেছেন, রাশিয়ার উচিত হয়নি একটা গ্যাস কিলিং এনিমেলের সাথে মিত্রতা করা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স গ্যাস হামলায় রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বুধবার বলেছেন, ট্রাম্প এখনো এই হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় বিবেচনা করছেন। প্রেসিডেন্টএই রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়া ও রাশিয়াকে দায়ী করেছেন।

ট্রাম্প সিরিয়ার ক্লোরিন ও সারিন অথবা সারিনের মতো বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সিরীয় সংকট নিয়ে বুধবার রাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এদিকে লেবাননে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সিরিয়ার যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে রাশিয়া তা গুলি করে নামাবে। এমনকী যেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হবে, সেসব জায়াগাকেও টার্গেট করবে রাশিয়া।

জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে বলেন, কোনো রকম সামরিক অভিযানের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। মস্কো ইতিমধ্যেই ওই হামলা কারা চালিয়েছে তা বের করার লক্ষ্যে একটি মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দুই পশ্চিমা মিত্র ফ্রান্স ও ব্রিটেন বলেছে, সিরিয়ার সরকার দুমায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এর জন্য প্রেসিডেন্ট আসাদকে শাস্তি পেতেই হবে।

সিরীয় সরকার ও রাশিয়া বার বার বলছে, কোনো রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ হয়নি। বরং বিদ্রোহীরা নাটক সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে। সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপিসিডিব্লিউকে দুমায় তদন্ত করতে দিতেও রাজি হয়েছে সিরিয়া।

কিন্তু এ ব্যাখ্যায় কান দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়াকে দায়ী করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প হুমকিও দিচ্ছেন, খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এদিকে বিশ্লেষকরা অবশ্য বলেছেন, সিরিয়া নিয়ে রাশিয়ার সাথে পুরোদস্তুর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে এখনো কুন্ঠা রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে ব্রিটেন এখনো এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না।

প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আরো প্রমাণ দেখতে চাইছেন। অন্যিদকে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন, যদি কোনো হামলার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার টার্গেট হবে রাশিয়ার সরকারি রাসায়নিক অস্ত্রের গুদাম। এছাড়া দুরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ সিরিয়ার উপকুলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে।

মার্কিন সামরিক নীতি নির্ধারকরা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছেন। ট্রাম্প ল্যাটিন আমেরিকায় তার এক নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।

সূত্র: বিবিসি ও এএফপি

Comments

comments