বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা এঁকে রেকর্ড গড়লো নান্দাইলের শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
অবিস্মরণীয় এক কীর্তির জন্ম দিলো ময়মনসিংহের নান্দাইলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা এঁকে তারা গড়লো অনন্য এক বিশ্ব রেকর্ড। আর এ রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে নান্দাইলকে নিয়ে গেল অন্য রকম এক উচ্চতায়। তারা এখন বলতেই পারে বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনাটি তাদেরই আঁকা।

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কজুড়ে আলপনা আঁকা শুরু করে নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা আঁকার এ উৎসবটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। এসময় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নান্দাইল পাইলট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরা চাইছিলো এমন কিছু করার যেন বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নতুন ভাবে তুলে ধরা যায়। সেজন্য চার কিলোমিটার রাস্তায় বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত বৈশাখী আলপনা এঁকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখাতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন, “এ সড়কের ঘোষপালা আমলিতলা থেকে ঝালুয়া বাজার পর্যন্ত মনের মাধুরি মিশিয়ে আলপনা একেছে শিক্ষার্থীরা। সাত সকাল থেকেই আমাদের এ আলপনা আঁকার উৎসব শুরু হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী ৪০টি গ্রুপে আলপনা আঁকার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।”

সৃজনশীল এ কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্যোক্তা নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী দীপানিকা দ্বীপ বলেন, “বিশ্বে আর কোথাও চার কিলোমিটার সড়কজুড়ে আলপনা আঁকার রেকর্ড নেই। আমরা এ রেকর্ডে নিজেদের শামিল করেছি। মনের আনন্দে আলপনা আঁকছি।”

আরেক শিক্ষার্থী ফারিয়া আফরিন বলেন, “এ ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে অনেকে আলপনা আঁকার চক নিয়ে, কেউবা তুলি নিয়ে, কেউ রং নিয়ে, রংয়ের বালতি হাতে নিয়ে, খাবার পানি বা খাবার স্যালাইন হাতে নিয়ে সহযোগিতার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম আলপনা আঁকার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে আমাদের প্রাণের নান্দাইলের নাম। এতে আমি নিজেও উৎফুল্ল।”

Comments

comments