আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে বেরোবি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

শিক্ষার্থীরা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তারা খতিয়ে দেখছেন এসব শিক্ষার্থীর মদতদাতা কারা। তবে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন, সেই তথ্য নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনের কাছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে একজন জাপানি নাগরিক ওসি কোনিও হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ওই মামলায় তার ফাঁসির রায়ও হয়েছে। এছাড়া, কয়েকদিন আগে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাদিয়া আফরোজ মীনা নামে আরেক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি রিমান্ডে রয়েছেন। আরও অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজরদারিতে রয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকার হোলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১০ দিনের বেশি নিখোঁজ থাকা শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সরকারের এ নির্দেশনার পর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহিম কবীর ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে এ বিষয়ে চিঠি দেন। পরে ১০টি বিভাগ তালিকা জমা দেয়। সেই তালিকায় কেউ নিখোঁজ ছিল না। বাকি ১১টি বিভাগ এখনও কোনও তালিকাই দেয়নি।

২১টি বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছেন, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও তথ্য দিতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনসারী বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রথম জঙ্গি সম্পৃক্তার অভিযোগ ওঠে। সে রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক ওসি কোনিও হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জাপানি নাগরিককে হত্যার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানের পর পুলিশি অভিযানের মুখে গাঢাকা দেয় আনসারী। ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাপানি নাগরিক হত্যা মামলায় তার ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। কিন্তু, এ পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে গোয়েন্দারা জঙ্গি সংগঠনের কিলিং মিশনের সদস্য বলে চিহ্নিত করে। তারও কোনও সন্ধান নেই। অন্যদিকে, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মতিয়ার রহমান ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তারও কোনও সন্ধান মেলেনি।

কয়েক দিন আগে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরোজ মীনা লালমনিরহাট থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এখন পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে। এই মীনাই নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর নাবিলা, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১১ এপ্রিল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জঙ্গি ও মাদক প্রতিরোধ বিষয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে জঙ্গি সম্পৃক্ততার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ওই সমাবেশে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ মিলেছে।’ তিনিও সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীদের ওপর কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে, এদের কারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নজরদারির মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহিম কবীর জানান, আমরা জঙ্গিদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে।

Comments

comments