সিরাজগঞ্জে খরাসহিষ্ণু চিনা চাষে অপার সম্ভাবনা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

তিন যুগ পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের যমুনার চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে খরা সহিষ্ণু চিনার আবাদ। ফলনও হয়েছে আশাতীত। ফলে চিনা চাষিদের মুখে এখন আনন্দের হাসি। যদিও নতুন প্রজন্মের অনেকেই চিনা চিনে না। কিন্তু এক সময় এ অঞ্চলে তার ব্যাপক আবাদ হতো। পরে তার চাহিদা কমে যাওয়ায় আবাদ বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর আবারও তার আবাদ শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলায় চলতি বছর ইরি ও বোরো আবাদের পাশাপাশি অনেকেই চিনার আবাদ করেছেন। ফলে তিন যুগ পর এ অঞ্চলে আবারও নতুন করে চিনা চাষ শুরু হয়েছে। সাধারণত বেলে দো-আঁশ মাটি ও পানি জমে না এমন জমি চিনা চাষের জন্য উপযোগী। ফলে উপজেলার যমুনার চরাঞ্চল ছাড়াও হুরাসাগর, বড়াল, করতোয়া, গোহালা, ধলেশ্বর ও সোনাই নদীর বালু চরে চিনা চাষ শুরু হয়েছে। তাছাড়া শাহজাদপুরের পাথার অঞ্চলেও এর চাষ হয়েছে বেশি।
যেসব জমিতে ইরি-বোরো ধান বা অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না সেখানেই চিনা চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, চলতি বছর ভালো বৃষ্টিপাত না হলেও চিনার আশাতীত ফলন হয়েছে। ফলে চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি। এখন উপজেলার নদী তীরবর্তী বালুচরের যে দিকেই তাকানো যায় সে দিকেই পাকা চিনার ক্ষেত। সোনালি পাকা চিনা দেখে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে।

চিনা চাষিরা জানান, এক সময় গ্রামের অভাবী মানুষ দিনের এক বেলা চিনা চালের ভাত খেতেন।

মাঝখানে চিনার বাজার মূল্য ও চাহিদা কমে যাওয়ায় যমুনার চরাঞ্চলে চিনা চাষ বন্ধ হয়ে যায়। এখন পাওরুটি, বিস্কুট তৈরি ও পোলট্রি খামারের খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাছে চিনা চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে অনেক অঞ্চলের চাষিরা চিনা চাষ করে ভালো বাজার মূল্যও পাচ্ছেন। ফলে চলতি বছর শাহজাদপুরের চরাঞ্চলবাসীরা তার আবদে ঝুঁকেছেন।

এর মধ্যে চিনা কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১৬-১৭ মণ। প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা। চাষিরা আরও জানান, সরকারিভাবে উদ্যোগ নিলে এ অঞ্চলের নদী অববাহিকায় পতিত জমিতে চিনার আবাদ আরও বাড়তে পারে। চিনা হয়ে উঠতে পারে এ অঞ্চলের অর্থকারী ফসল।

শাহজাদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের চরগুদিবাড়ি গ্রামের চিনা চাষি  হাফিজুর রহমান জানান, চরের শত শত বিঘা জমিতে বালুর পরত জমায় ইরি-বোরোর আবাদ ভালো হয় না। ফলে পতিত জমিতে আমরা এখন চিনার চাষ করছি। চিনার বীজ ছিটিয়ে দুবার সেচ ও একবার ইউরিয়া সার দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। পোতাজিয়া ইউনিয়নের ধলাই নদী তীরবর্তী রাউতারা গ্রামের জমারত বিশ্বাস জানান, চিনা চাষের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। তাছাড়া চিনা আবদে খরচ খুবই কম। ফলে আমরা নতুন করে এ চিনা চাষ শুরু করেছি।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ মনজু আলম সরকার জানান, এ অঞ্চলের চাষিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিনা চাষ করায় আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। আগামী দিনে কীভাবে এর আবাদ বাড়ানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Comments

comments