ফরিদপুরে পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন

ফরিদপুর প্রতিনিধি :

ফরিদপুরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হাজার মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

পেঁয়াজ বীজ চাষিরা এরই মধ্যে ফসলটি ঘরে তুলেছেন। সংগ্রহের প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছেন তারা।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর অঞ্চলে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় জেলার অনেকেই এখন পেঁয়াজ বীজের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ কিংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় চার হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন হবে, যার বাজার প্রায় মূল্য ২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ শুধু ফরিদপুর জেলাতেই উৎপাদন হবে।’

তিনি জানান, সরকারের বিএডিসির সংগৃহীত মোট পেঁয়াজ বীজের ৬০ শতাংশ ফরিদপুর জেলা থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কিষাণ কিষানীরা পেঁয়াজ বীজ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অম্বিকাপুর মাঠের পেঁয়াজ চাষি মো. রবিউল সিকদার, বারী চৌধুরী, জুলেখা বেগমসহ অন্যান্যরা জানান, এই মৌসুমে বীজ তোলার কাজ করে যে পেঁয়াজ তারা পান, তা দিয়ে সংসারের সারা বছরের পেঁয়াজের চাহিদা মিটে যায়।

গোবিন্দপুর মাঠের পেঁয়াজ বীজ চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি তিন মণের বেশি বীজ উৎপাদন হবে। তাদের প্রত্যাশা বিক্রয় মৌসুমে (নভেম্বর মাসে) প্রতি মণ পিঁয়াজ বীজ  ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। অথচ এর খরচ প্রতি বিঘায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বিঘাপ্রতি আড়াই লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর গ্রামের বিএডিসির তালিকাভূক্ত সফল পিঁয়াজ বীজ চাষি মো. বকতার হোসেন খান বলেন, ‘এই বছর ৩০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করছি। বাম্পার ফলনও হয়েছে। আশা করছি ৯০ মণের বেশি বীজ উৎপাদন হবে।’

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ‘এ বীজ উৎপাদন করে রবি মৌসুদে চাষীরা অধিক মুনাফা করে এই কারণে এই ফসলকে কালো সোনা হিসাবে অভিহিত করা হয়। কৃষি বিভাগ জেলার পেঁয়াজ বীজ চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকে।’

Comments

comments