বাকৃবিতে সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তি চরমে

মো. আরিফুল ইসলাম, বাকৃবি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জব্বারের মোড় থেকে ফসিলের মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। সর্বত্র খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে সাথে কাদায় চলাচল দায় হয়ে পড়ে। আর রোদের দিনে ছোট ছোট গাড়ি চললেই ধূলা যেন মরু ঝড়কে হার মানায়। মাত্র পাঁচ মিনিটের এ রাস্তা পার হতে পথচারীদের নাভিশ্বাস ওঠে যায়। সড়কের এ বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বার বার অভিযোগ করেও রাস্তার সমস্যায় কোন সমাধান হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হল, শাহজালাল হল, শহীদ শামসুল হক হল, শহীদ নাজমুল আহসান হল, আশরাফুল হক হল, শহীদ জামাল হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পরীক্ষার সিট, খাতা-কলম, খাবারসহ বিভিন্ন কাজে জব্বারের মোড়ে এবং ফসিলের মোড়ের হোটেল ও স্টেশনারী দোকান গুলোতে যেতে হয়। এছাড়াও কৃষি অনুষদের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগ, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও এর ডরমেটরি যেতে হলে এ রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয়।

এ সড়কের ডানপাশে রেল লাইনের ওপারে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো তিনটি হল। এগুলো হচ্ছে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, ফজলুল হক হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল। জব্বারের মোড় থেকে স্টেডিয়াম হয়ে ওই তিন হলে যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের চলাচলের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কগুলো সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনোই মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো সড়কটিই খানাখন্দে ভরা। সামান্য যানবাহন চলাচলেই ধূলাবালিতে সামনের ধূসর মরুঝড়ের মত অবস্থার সৃষ্টি হয়। সড়ক থেকে দুপাশ উচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। আর ভাঙাচোড়া ও কর্দমাক্ত সড়কে চলতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। সারা বছর ভোগান্তি সইলেও সামান্য বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন থেকে সড়কের এমন দুর্দশা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ রাস্তা ব্যবহার করে তাদেরকে প্রতিদিন আবাসিক হলে যেতে হয়। চলাচলের সময় যানবহনের চাকার ছিটকে আসা ময়লা পানিতে তার জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আর ধূলাবালিতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

এদিকে হল থেকে জব্বারের মোড়ের সংযোগ সড়ক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, ফজলুল হক হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের শিক্ষার্থীরা। বলেন, হলের রাস্তার অবস্থা খুবই শোষণীয়। রাস্তার প্রায় ৮০ভাগ পিচ উঠে গেছে। দীর্ঘ দিন থেকেই এ রাস্তার করুণ অবস্থা। বৃষ্টি হলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, ফজলুল হক হলের সামনের রাস্তা ডুবে থাকে। চলাচলে ভীষণ কষ্ট হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে ৬০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গঠনের জন্য অনেক কাজ বিষয় অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। ফলে হলের এ ধরণের সমস্যাগুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কবে নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহীন ইসলাম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন বেশ কিছু রাস্তায় সমস্যা রয়েছে।সেগুলোর কাজ দ্রুত শুরু হবে। কিন্তু ড্রেন ও জব্বার-ফসিলের রাস্তা ঠিক করার জন্য আর্থিক বরাদ্দ না থাকার কারণে এগুলো ঠিক করা সম্ভব হবে না।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সচ্চিদানন্দ দাস বলেন, রাস্তাটি মেরামতের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থানীয় মেয়রের সাথে দেখা করে জানিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্থ করেছেন।

Comments

comments