এক শিষে হাজার দানার ধান: উপকুলীয় চাষিদের নতুন স্বপ্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

ফকিরহাট উপজেলা বেতাগায় উদ্ভাবিত একটি শিষে হাজারি দানার ধান উপকুলীয় চাষিদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদিপ মন্ডলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ধান ক্ষেতে তিন বছর আগে প্রাপ্ত প্রতি হেক্টরে ১১ টন উত্পাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিশেষ ৩টি ধানের শিষে বদলে গেছে চুকুলি গ্রামের কৃষাণির ভাগ্য। পশুর নদীর তীরবর্তী জমিতে লবণ সহনশীল এ ধানের ব্যাপক ফলন হওয়ায় উপকুলের চাষিদের মাঝে সাড়া জেগেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান কালে ফাতেমা বেগম জানান, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ধান ক্ষেত এক গুছিতে তিনটি ছড়া (শীষ) পাওয়া যায়। বিষয়টি উপ সহকারী কৃষি অফিসার প্রদীপ মণ্ডলকে জানালে তিনি ছড়া তিনটি সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। পরবর্তী মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষাণির পুত্র লেবুয়াত ধানের চারা রোপণ করে ২.৫ কেজি বীজ ধান সংগ্রহ করেন। যা এক শতক জমিতে বীজ বপন করে ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রায় ৫০ শতক জমিতে ধান চারা রোপণ করা হয়। সাধারণ দেশীয় জাতের ধানের মত করে এটি চাষ করা হয়। ৫০শতক জমি চাষ করতে মোট খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। ধান কেটেই বীজ বিক্রি করা হচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদিপ মণ্ডল জানান, ফাতেমা বেগমের জমিতে উত্পাদিত ধান গাছের প্রতিটির দৈঘ্য ১১৫-১৩০ সেমি, টিলারের (পোট) সংখ্যা গড়ে আটটি, ধানের শিষ বা ছড়ার দৈর্ঘ্য ৩৬সেমি/১৪ ইঞ্চি, দানার সংখ্যা ৯/১১শ’টি, পাতার দৈঘ্য ৮৮ সেমি, চওড়া ১.৫ইঞ্চি, কান্ড দেখতে প্রায় আখ গাছের মত, হেক্টর প্রতি গড়ে ফলন হয়েছে ১১ টন। পশুর নেদীর লবণ পানি এ অঞ্চলে প্রবাহিত হওয়ায় লবন সহনশীল জাত বলে এটিকে ধারনা করা হচ্ছে। এটা ফকিরহাটে তথা উপকুলীয় জেলার জন্য আর্শীবাদ।

কৃষাণির পুত্র লেবুয়াত বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন দাশের দিক নির্দেশনায় কৃষি সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির নেতৃত্বে স্থানীয় চাষিরা চাষাবাদ সম্পর্কে অনেক সচেতন হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের ভাগ্যে সাফল্য ধরা দিয়েছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা নতুন এ ধানের ফলন দেখে ৪শ টাকা দরে বীজ সংগ্রহ করছে। ইতোমধ্যে তিনের এক ভাগ ধান কেটে প্রায় তিন লাখ টাকার বীজ ধান বিক্রি হয়েছে। আরো ছয় লাখ টাকার বীজ ধান বিক্রি হবে বলে তিনি ধারনা করছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা রঘুনাথ পুরের মিল্টন বিশ্বাস, উজ্বল মণ্ডল, অজয় বারই, রামপালের রসুল, মায়া বিবি, মোংলা হলদি বুনিয়ার কামরুল, আশিক জানান, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধানের খরব পেয়ে আমরা দেখতে আসি। ধান গাছ ও প্রতিটি গাছে দিগুণ ফলন দেখে আমরা হতবাক। তাই আমরা বীজ সংগ্রহ করছি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. তমাল লতা আদিত্য বলেন, এ বড় ধানের ছড়া আমি আগে কোথাও দেখিনি। গবেষণার মাধ্যমে এই ধানের জাতটি যদি সব স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে ধান উত্পাদনে বিশ্বে একটি নজির বিহিন উদ্ভাবন হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

Comments

comments