সেই এশাকে হেনস্তাকারী ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে ‘হেনস্তার’ ঘটনায় ওই হলের ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাবি প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

নোটিশে অভিযুক্ত ছাত্রীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ‘মিথ্যা, অসত্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, পরিকল্পিতভাবে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে মারধর ও জুতোর মালা পরিধান করানোর অভিযোগের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, হল প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি ওই রাতের ঘটনায় ছাত্রীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিষদ ও সিন্ডিকেট শাস্তির সুপারিশ করেছে। নোটিশ প্রাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর না দিলে একতরফাভাবে কর্তৃপক্ষ শাস্তির ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাওয়া কয়েকজন দাবি করেছেন, ওই ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন না, বরং তারা সে সময় এশাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেরাও উত্তেজিত ছাত্রীদের হাতে মার খেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল গভীর রাতে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে মোর্শেদা খানম নামে এক ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। এসময় এশার বিরুদ্ধে ঐ ছাত্রীকে রগ কেটে দেয়ার গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। আর এ অভিযোগ ওঠার পর হলের উত্তেজিত ছাত্রীরা ইফফাত জাহান এশাকে লাঞ্ছিত করে। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পেয়েছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশাকে বহিষ্কার করার কথা জানান। একই সময়ে ছাত্রলীগ থেকেও এশাকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু পরে রগ কাটার অভিযোগ ‘ভুল প্রমাণ’ হলে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

Comments

comments