বেরোবি’র সাত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত বিভাগে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২১ মে) এ সংক্রান্ত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান।

শুনানি শেষে রিটকারীর আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত বিভাগ সাতটি হলো—বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থগিতাদেশ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ করা ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ মোট চারজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।’

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এক বছর আগে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এই নিয়োগ না দিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মনজুর আরিফসহ তিনজন আদালতে রিট দায়ের করেন। যার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত স্থগিতাদেশসহ রুল জারি করেন।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাসসহ মোট ১৫টি বিভাগে ২৫ জন প্রভাষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এরপর এপ্রিল পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি—এমন অভিযোগ করে রিট আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধান।

ওই রিট আবেদনের ফলে বাকি আট বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে একই বছরের ৭ আগস্ট রিট আবেদন প্রত্যাহার করে নেন তাবিউর রহমান। যার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের গত ৩ এপ্রিল সাত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হলে আদালত এই আদেশ দেন।

Comments

comments