নীলফামারীতে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে কৃষিতেই ক্ষতি শতকোটি টাকা

নীলফামারী প্রতিনিধি:

কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শুধুমাত্র কৃষিতেই ক্ষতি হয়েছে ১০৯ কোটি টাকার উপরে। আর ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়েছেন ৭৩ হাজার ৩৪৮ জন কৃষক। বোরো ধান, রোপা আউস, পাট, বাদাম, ভুট্টা, শাকসবজি, মরিচ ও মুগ ডাল ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৩৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদন করা হলেও শিলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয় ৫৩ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমি।

এরমধ্যে দুর্যোগে আক্রান্তের পরিমাণ ১৭ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ ১২ হাজার ৩৬ হেক্টর, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ ১২ হাজার ৩৭ হেক্টর। উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হয় ৬২ হাজার ৪৩৯ মেট্রিক টনে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলার ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো— ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি, কেতকিবাড়ি, জোড়াবাড়ি, গোমনাতি, বামুনিয়া, বোড়াগাড়ি, পাঙ্গা মটকপুর, ডোমার, হরিণচড়া, ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া, ডিমলা, ঝুনাগাছ চাপানি, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানি, টেপাখড়িবাড়ি, নাউতারা, পুর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ধর্মপাল ও গোলনা।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকা ডোমার উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, ইউনিয়নে ৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরমধ্যে অর্ধেকেই কৃষক। তারা আবাদ করে সংসার চালান। ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় একেবারে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ইউনিয়নে ২৪ মেট্রিক টন চাল, ৫ জনকে ১ বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ১৪ জনকে ১ হাজার করে টাকা দিতে পেরেছি মাত্র সরকারি উদ্যোগে।

এদিকে পুর্নবাসনের জন্য ডোমার উপজেলা ও জলঢাকা উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ডোমারের বামুনিয়া এবং জলঢাকার ধর্মপাল ইউনিয়নের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় সম্প্রতি।

ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক রনজিৎ কুমার অধিকারী, বিপ্লব চক্রবর্তী ও জাহিনুর ইসলাম বলেন, ঘর-বাড়ি ক্ষেত সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের চলার কোনো উপায় নাই। আমরা খাবো কিভাবে বাঁচবো কিভাবে। সরকারের কাছে আমরা আকুতি জানাই যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

বামুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান বুলেট জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাত্র ১৬ মেট্রিকটন চাল ১ হাজার ৬’শ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনেক কিন্তু বরাদ্দ কম। কষ্টে থাকা মানুষদের পাশে বিত্তবানদেরও দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত তিন উপজেলার জন্য ৩ মেট্রিক টন চাল, ৪ লাখ টাকা, ১’শ বান্ডিল ঢেউটিন ও নির্মাণ ব্যয় ৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নিহত সাতজনের পরিবার প্রতি ১৫ কেজি করে চাল এবং নগদ ৩০ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়েছে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারী উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কেরামত আলী জানান, তিন উপজেলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২ কেজি আউস ধানের বীজ এসেছে বিতরণের জন্য। অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে তালিকা করে সেগুলো বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রণোদনার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করেছি।

প্রসঙ্গত গেল ১০ মে রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ঘরচাপা, গাছ পড়ে ডোমার ও জলঢাকা উপজেলায় সাতজন নিহত হন।

Comments

comments