বিতর্কিত গোল উদযাপন: দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ শাকিরি-শাকা

ক্রীড়া ডেস্ক:
শুক্রবার রাতে কালিনিনগ্রাদে সার্বিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল সুইজারল্যান্ড। এই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও গ্রানিত শাকা ও জাদরান শাকিরির গোলে জয় পেয়েছে সুইসরা। গোলের পর শাকা ও শাকিরি ভিন্নরকম উদযাপন করেন।

সার্বিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর জাতীয়তাবাদী উদ্‌যাপন করেছিলেন সুইস তারকা জেরদান শাকিরি। সার্বিয়ার বিপক্ষে নিজের জন্মভূমি কসোভোর রক্তাক্ত অতীতকে ইঙ্গিত করা সেই উদ্‌যাপনে ফিফার তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

ফুটবলে অনেক সময়ই জাতীয়তাবাদ একাকার হয়ে যায়। দেশের হয়ে খেললে এর মাত্রা বাড়ে। এটা খুবই স্বাভাবিক। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই তো দেশের জার্সিতে খেলতে হয়। দেশপ্রেমের আবেগই তো দেশেরই হয়ে খেলার মূল পুঁজি। কিন্তু দেশপ্রেমের আবেগ যে অনেক সময় বড় বিপদের কারণ হয়, সেটা এখন বুঝতে পারছেন সুইজারল্যান্ডের দুই তারকা জেদরান শাকিরি ও গ্রানিত শাকা। সার্বিয়ার বিপক্ষে গোল করে এই দুজনই নিজেদের জন্মস্থানের সঙ্গে সার্বিয়ানদের রক্তাক্ত ইতিহাসকে মনে করে দিয়েছেন। ব্যাপারটি পছন্দ করেনি ফিফা।

শাকিরির জন্মস্থান কসোভো। শাকার আলবেনিয়া। কসোভো আর আলবেনিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার টানাপোড়েন অনেক পুরোনো। সার্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়েই তো জন্ম হয়েছে কসোভোর। আলবেনিয়াতে ১৯৯৯ সালে সার্ব বাহিনী চালিয়েছিল আগ্রাসন। ২০০৮ সালে স্বাধীন হলেও বেলগ্রেডের (সার্বিয়ার রাজধানী) স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। সুইজারল্যান্ডের হয়ে খেললেও সুইস দলের বেশ কিছু খেলোয়াড়ের নাড়ি পোঁতা আছে কিন্তু কসোভো আর আলবেনিয়াতেই। শাকিরি শাকা ছাড়াও আছেন ব্লেরিম জেমাইলি প্রমুখ।

নব্বইয়ের রক্তক্ষয়ী বলকান যুদ্ধে সার্বিয়ানদের হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে বাঁচার জন্য শাকা-শাকিরির বাবা–মা চলে আসেন সুইজারল্যান্ডে। ভুলে যাওয়ার মতো শৈশব কাটিয়েছিলেন শাকা-শাকিরিরা, সেই দুঃখ আর দারিদ্র্য ভুলতেই ফুটবলের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তাঁরা। এখন সুইস দলে খেলা এই দুজন কিন্তু ভোলেননি সেই যন্ত্রণাময় অতীতের কথা। আর তাঁরা যে ভোলেননি, তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল সার্বিয়ার বিপক্ষে তাঁদের গোল উদ্‌যাপনে।

ফুটবল মাঠে রাজনীতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চায় ফিফা। শাকিরিদের বিতর্কিত উদ্‌যাপন ফিফার এই নীতিকে আঘাত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেটি হলে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন সুইস ফুটবলের এই দুই মূল ভরসা। গ্রুপপর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ শেষ ম্যাচের আগে অবশ্যই সুইজারল্যান্ড কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ এমন কোনো খবর শুনতে চান না!

সেদিন মাঠে থাকা সার্বিয়ান দর্শকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ফিফা। সেদিন তারাও নানা ধরনের ব্যানার-ফেস্টুনে মাঠে তৈরি করেছিল অস্থিরতা!

তবে তাদের গোলের পর সুইজারল্যান্ডের মতো আলবেনিয়া ও কসোভোর লোকজনও খুব খুশি হয়েছে। কসোভোর প্রেসিডেন্ট ও আলবেনিয়া প্রধানমন্ত্রী তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকিরি ও শাকার উদযাপনের ছবি দিয়ে অভিনন্দনও জানিয়েছেন।

শাকিরি বলেন, ‘আসলে এটা কোনোভাবেই রাজনৈতিক ছিল না। পুরোটাই ফুটবল সংশ্লিষ্ট ছিল।’

সূত্র: Independent.co.uk

Comments

comments