ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক হালিমা খাতুন মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় হৃদরোগ, ৮৬ বছর বয়সী হালিমা খাতুনের কিডনি জটিলতা, রক্তদূষণসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগ ছিল।

হালিমা খাতুনের মেয়ে আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী বলেন, মরদেহ ধানমন্ডিতে আমার মেয়ের বাসায় নেয়ার পর ফ্রিজিং ভ্যানে রাখা হবে। তারপর বুধবার সকাল ১১টায় নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে নাগরিক শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হবে। বিকেলে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

হালিমা খাতুন ১৯৩৩ সালের ২৫ অগাস্ট বাগেরহাট জেলার বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবার নাম আবদুর রহিম শেখ ও মা দৌলতুন নেসা। বাদেকাড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনমোহিনী গার্লস স্কুল, বাগেরহাট প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে পাঠ শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে হালিমা খাতুন জড়িয়ে পড়েছিলেন ছাত্র রাজনীতিতে। পরে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামেও তিনি জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের আমতলায় সমাবেশে তিনি ছাত্রীদের জড়ো করায় ভূমিকা পালন করেন।

পরে ভাষা সৈনিকদের মিছিলে গুলি চালায় পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। সেই মিছিলে হতাহতদের ছবি তুলে রেখেছিলেন ছাত্ররা। সেই ছবিটি তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন হলে। পরে সে ছবিটা বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন হালিমা খাতুনরা।

ভাষা সংগ্রামে আহত ছাত্রদের জন্য হালিমা খাতুন তার দল সংগঠিত করে চাঁদা তুলেছিলেন। পরে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নারীদের সংগঠিত করার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি হালিমা খাতুনকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা প্রদান করেছে।

Comments

comments