বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও বহিরাগত সংঘর্ষ: আহত অর্ধশত

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

বুধবার (৪ জুলাই) শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসের জয় বাংলা চত্বরে মানবন্ধন করে। এক পর্যায়ে তারা পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় এলাকাবাসী দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের দিকে এগিয়ে এলে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ প্রায় ৭৫ জন আহত হয়।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। অনতিবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২। এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিকে রূপান্তর করতে হবে ।
৩| বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ বক্স স্থাপন করতে হবে।
৪। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া/রেস্টুরেন্ট স্থাপন করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানায়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের উপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই ও দোষীদের গ্রেপ্তার করে তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জয়নাব বিনতে হোসেন জানান, গ্রামবাসীর সাথে আমাদের সমঝোতা হয়েছে তারা কথা দিয়েছে আর কোন সংঘর্ষে তারা জড়াবে না। আর শিক্ষার্থীদের দাবী দাওয়া তারা পেশ করেছিল সেগুলো আমরা মেনে নিয়েছি আর তারাও হলে ফিরে গিয়েছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে আশাকরি আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়কের উপর আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীরা। এরই এক পর্যায়ে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গোবরা গ্রামবাসীর দুইটি দোকানপাট ভাংচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করলে শিক্ষার্থী, গ্রামবাসী ও পুলিশের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ছাত্র ও গ্রামবাসীর ছোড়া ইটের আঘাতে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলামসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহতসহ অন্তত ৫০জন ছাত্র-জনতা আহত হয়। আহতদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গোবরা গ্রামের ১৫/১৬ জন যুবক গোবরা গ্রামে ফুটবল খেলা শেষে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস লেকে গোসল করতে প্রবেশ করে। তারা প্রায় অর্ধ উলঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে গোসল শুরু করে। লেক পাড়ে বেশ কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থীও ছিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্র এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। পরে বহিরাগতরা ওই ২ ছাত্রকে মারপিট করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বদ্যিালয়ের সামনের বেলায়েত হোসেন মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা সোবহান সড়কের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। ৭ টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় থেমে থেমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়িতে ভাংচুর চালানোসহ দুটি মটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে বিশ্বদ্যিালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ভাংচুর ও শিক্ষার্থীদের মারপিট করে। এতে শিক্ষার্থীসহ ৫০ জন আহত হয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও গোবরা গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন পক্ষ মামলা দায়ের করেনি।

Comments

comments