পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামে ৬০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে প্রধান প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। বিশেষ করে ধরলা ও দুধকুমার নদী এলাকায় বন্যা অবস্থা বিরাজ করছে।

এসব এলাকার মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ৩ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার ১২৬ জন মানুষ পানিবন্দি এবং ২৩২টি পরিবার ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে। কিন্তু ধরলা ও দুধকুমার নদী এলাকায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা আরও বেশি।

ভুরুঙ্গামারীতে ৭ ইউনিয়নে ২৫টি গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এছাড়াও সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারোডোব গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ২টি স্থানে মেরামত করা বাঁধ ও একটি বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। গত দু’দিনে এ বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ১০টি পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও এই ইউনিয়নের ছাটকালুয়া, বারোঘরিয়া, আঠারোঘরিয়া ও হেমেরকুটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।

সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের নন্দদুলালের ভিটা, জগমোহনের চর পূর্ব ও পশ্চিম, পাঙ্গারচর, কুড়ার পাড়, মাধবরাম গ্রাম শুক্রবার ভোররাত থেকে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পানি উঠেছে। এখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি মসজিদ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এখানে তীব্র ভাঙনে ১৯টি পরিবার বাড়ি-ঘর সরিয়ে ফেলেছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর তৈয়বখাঁ, চর হায়বতখাঁ, চর পাড়ামৌলা, চতুরা, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাবখাঁ, চর বুড়িরহাট, চর সরিষাবাড়ী ও ধরলা নদীর ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চরসহ প্রায় ১০টি চরের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রে ৩৫ ও দুধকুমারে ৩২, ধরলায় ৪৬ ও তিস্তায় ২৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। বিকেল ৬টা থেকে কুড়িগ্রাম ফেরিঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য নদ-নদীগুলো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার উপর দিয়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা দুধকুমার নদের পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ২৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এখানে সদর ইউনিয়নের চর নলেয়া, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া, মাহিগঞ্জ চান্দনীয়া, ফকিরপাড়া, আসাম পাড়া, গনাইরকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের চর পাইকেরছড়া,পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া, শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড়, দক্ষিণ তিলাই, চরভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বলদিয়া ইউনিয়নের চর সতিপুরী, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা, চর বারুইটারী গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫টি গ্রামে বন্যায় পানি উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, রাজারহাটের কালোয়া গ্রামে রাতে তিনি নিজে থেকে বাঁধ রক্ষার কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে বাঁধটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এই বাঁধটি ভেঙে গত বছরের বন্যায় কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তিস্তার পানিতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫টি চর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় আমনের বীজতলা, ভুট্টা, কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

Comments

comments