ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী হেনস্তার অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগের এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ওই ছাত্রী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম খালেদা জিয়া হলের ছাত্রী। বিভিন্ন সময়ে মানসিক চাপ ও হেনস্তার একপর্যায়ে নদী (ছদ্মনাম) মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে বলে তার সহপাঠীদের অভিযোগ।

ক্যাম্পাস সূত্রে ও ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা জানান, ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ম শেখ হাসিনা হলে যৌন নির্যাতন, হয়রানি, ইভটিজিং বন্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। ওই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় হলের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে তাদের বিভিন্ন হয়রানিমূলক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। উপাচার্য যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের মাধ্যমে এ সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সেখানে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী নাম পরিচয় গোপন রেখে বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিমূলক অভিযোগ পেশ করেন। পরে উপাচার্য বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সঞ্জয়কে এ বিষয়ে সতর্ক করে দেন।

সহপাঠীরা আরও জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সঞ্জয় কুমার ওই ছাত্রীকে তার রুমে ডেকে বিভিন্ন হুমকি দেন। এছাড়া ওইদিনের পর থেকে সঞ্জয় কুমার ওই ছাত্রীটিকে চোখে চোখে রাখেন। তবে ভুক্তভোগী নদী (ছদ্ম নাম) ওই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার উপরও চোখ রাখেন। সঞ্জয় কুমারের ধারণা ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হওয়ার সুবাদে নদী (ছদ্ম নাম) ওই ছাত্রীকে প্ররোচনা দিয়ে তার বিরুদ্ধে উপাচার্যে কাছে অভিযোগ দিয়েছে। কারন নদী (ছদ্মনাম) খুবই প্রতিবাদী একটি মেয়ে। এরপর ২য় সেমিস্টারে সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারের ১২৩ নং ও ১২৫ নং কোর্সে ওই দুই ছাত্রীকে অকৃতকার্য করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে তারা।

গত ১ জুলাই ৩য় সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষাতে এক্সর্টানাল প্রশ্ন করলে ওই ছাত্রী সঠিকভাবে উত্তর দিতে না পারায় সঞ্জয় তাকে অপমান করেন। পরে বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনস্তার শিকার করেন। গত ৩ জুলাই পরীক্ষার বিষয়ে সঞ্জয়ের কাছে গিলে ওই ছাত্রীকে পুনরায় হেনস্থা ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তার সহপাঠীরা। এরপর থেকে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। সে বেগম খালেদা জিয়া হলের সবার সাথে অসংলগ্ন আচরণ করছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। আর সঞ্জয়ের নাম উল্লেখ করে সে আমাকে হত্যা করবে, আমার পরিবারকে হত্যা করবে বলে বিলাপ করছে। এদিকে খবর পেয়ে মেয়ের ভাই তারেক ঢাকা থেকে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে এসেছেন বলে জানা গেছে। পরে ভাইয়ের মাধ্যমে সদীকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. অশোক কুমার চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নদীর ভাই তারেক জানান, আমার বোন কুমিল্লা বোর্ডের স্টার্ন্ডধারী ছাত্রী। সে বড় ধরনের কোন কারণ ছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কথা না। এছাড়া সে ডিসেম্বরে বাড়িতে এসে তার বড় বোনকে জানায় বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় মেয়েদের দিকে কেমন কু-নজরে তাকায়।

এর আগে কুষ্টিয়া শহরের স্থানীয় এক মেয়েকে উত্যক্ত করার দায়ে চলতি বছর সঞ্চয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন ওই মেয়ের অভিভাবকরা। পরে শিক্ষক নেতারা কুষ্টিয়াতে ঘটনাটির একটি সুরাহা করেন বলে খবর পাওয়া যায়। একইভাবে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন এক ভর্তি পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে ওই সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু তখনো কৌশলে পার পেয়ে যায় সে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, ‘কোর্স দুটিতে ওই ছাত্রীসহ কয়েকজন ফেল করেছে। আর মৌখিক পরীক্ষায় আমি একটু বেশি প্রশ্ন করেছিলাম।’ তবে হুমকির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকরী বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নারীদের অভয়ারণ্য। এখানে যে কোন যৌন নিপীড়ন, নির্যাতন, হেনস্থার বিরুদ্ধে জিরো টল্যারেন্স জারি আছে। তবে এ রকম কোন বিষয়ে অভিযোগ আসলে তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হবে।

Comments

comments