টাকা না হলে ফাইল সই করেন না ইউএনও

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:
বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনের নামে ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলমের বিরুদ্ধে। এমনকি ইউএনও টাকা না পেলে কোনো ফাইলে সই করেন না বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।

ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের ঘটনা সীতাকুণ্ডে এর আগে ঘটেনি। তবে ইউএনও দাবী, তিনি কারো কাছ থেকে টাকা নেননি। তার নামে অন্য কেউ টাকা নিলে তিনি দায়ী নন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গেলো ৭ মে চট্টগ্রামের কাপ্তাই উপজেলা থেকে বদলী হয়ে সীতাকুণ্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগ দেন তারিকুল আলম। তিনি এখানে এসেই নানাভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, পরিষদের ঠিকাদারসহ অন্যদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে থাকেন। বিশেষ করে গেলো ঈদে তিনি প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঈদ বকশিস গ্রহণ করেন।

সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি তিনি প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন শুরু করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার পর তাকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। যেসব ইউপি চেয়ারম্যান তার চাহিদা মতো টাকা দিচ্ছেন তাদের খাতায় কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করছেন আর যে চেয়ারম্যান চাহিদা পূরণ করতে না পারছেন তিনি তার খাতায় মান সন্তোষজনক নয় বলে লিখেছেন।

এছাড়া সরকারি ঠিকাদাররা তাকে টাকা না দিলে তার ফাইলেও সই করছেন না। এ অবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদার সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার সরকারী তালিকাভুক্ত ঠিকাদার ত্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ লিয়াকত অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাকখালী সড়কের কাজের ফাইল আটকে রাখেন ইউএনও। পরে ইউএনওর জন্য ৫ হাজার টাকা দিলে তার ফাইল পাস হয়। আরও কয়েকটি ফাইল টাকা না দেয়ায় আটকে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউএনওকে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা। তারা জানান, ইউএনও গত ৫ জুলাই উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ২৮ জুলাই সৈয়দপুর ও বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন।

উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, গত ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি বিভিন্ন ফাইল দেখেন। যাওয়ার সময় পরিদর্শন ফি হিসাবে ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে তার গাড়ি চালক ও পিয়নের জন্যও টাকা দিতে বলেন।

তিনি বলেন, আগে এভাবে কোনো ইউএনওকে টাকা দিতে হয়নি। ইউএনও পরিদর্শন ফি হিসাবে ৫ হাজার টাকা নিবে তা ভাবতেও খারাপ লাগে।

একইদিন ইউএনও পরিদর্শন করেন বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদ। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন বলেন, ওইদিন আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিসে একটি কাজে ছিলাম। আমাকে ইউএনও ফোন করে পরিদর্শনে আসবেন বলে জানান। আমি নেই জানিয়ে তাকে সবিনয় বসতে বলেছি। এক ঘণ্টার মধ্যে অফিসে আসবো বলেছি, কিন্তু তিনি আমার অপেক্ষা না করে পরিদর্শন বইতে লিখে দিয়েছেন চেয়ারম্যান অনুপস্থিতসহ নানা অসন্তোষের কথা।

একইভাবে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন আজিজ ১০ হাজার টাকা, সোনাইছড়ির চেয়ারম্যান মুনীর ৫ হাজার টাকা ইউএনকে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান তারা।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনের শেষে ইউএনও গাড়ি চালক অলি আমার কাছে ইউএনওর জন্য সম্মানী চেয়েছেন। তবে ওই সময় আমার কাছে টাকা না থাকায় পরিবর্তীতে পাঠিয়ে দেবো বলেছি।

এদিকে এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি। আর আমার নামে কেউ টাকা নিলে তার দায়দায়িত্ব আমি নেব না। এগুলো সত্য না। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে দাবী করেন তিনি।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন বলেন, আমিও এ ধরনের কথা শুনেছি। কিন্তু এসব সত্য না মিথ্যা তা আমি জানি না। তবে আমি সবাইকে বলেছি কাজ শতভাগ করতে হবে। এরজন্য কাউকে এক টাকাও দিতে হবে না।

Comments

comments