হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে শিক্ষকদের কর্মসূচি ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-আগামী বৃহস্পতিবার সংহতি সমাবেশ। ওইদিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই সমাবেশ হবে। ২৩ জুলাই বটতলায় নিপীড়নবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অবিলম্বে শিক্ষক সমিতির কাছে পত্র পাঠানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বতা রক্ষা, অ্যাকাডেমিক মান সমুন্নত রাখা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আচার্য বরাবর সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের উদ্যোগে স্মারকলিপি প্রদান।

কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মুরাসির কামাল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান প্রমুখ।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটলেও শিক্ষক সমিতি এখনও কোনো বক্তব্য দেয়নি। আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

লিখিত বক্তব্যে সামিনা লুৎফা বলেন, ‘কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হামলার পরই কেবল আমরা স্বাধীন চিন্তার নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকরা এই আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহের দিকে মনোযোগী হয়েছি। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের মারধর ও ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে আমাদেরও ন্যাক্কারজনকভাবে লাঞ্ছিত করে।’

উল্লেখ্য, গত রোববার কোটা আন্দোলনে নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধন পণ্ড করে দেওয়া হয়। তখন সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। এদিন শিক্ষকদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দীন খান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ফাহমিদুল হক, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments