বাকৃবিতে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রয়াত কৃষিবিদ নিয়াজ পাশার স্বপ্নের হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পদযাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ওই ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ বছর পূর্তিতে বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে অ্যালামনাই মিলনমেলা আয়োজন করা হয়। বাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলী আকরবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এছাড়াও এতে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ ড. মো. আবদুল রাজ্জাক এম.পি, বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আবদুল মান্নান এম.পি উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল।

এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, কৃষিবিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশ আজ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। আপনাদের উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি আমাদের দেশের ফসলের উৎপাদন বহুগুনে বৃদ্ধি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের কৃষি আজ হুমকির মুখে। হাওড়ে বছরে একটি মাত্র ফসল ফলে। কিন্তু এসময় আগাম বন্যার কারণে এই ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরফলে হাওড় অঞ্চলের জনগণের অর্থনীতিতে সার্বিক অর্থনীতিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফসল সংরক্ষণের অভাবে ও উৎপাদিত পণ্যর ন্যায্যে মূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীর গবেষণার মাধ্যমে কৃষি সকল সমস্যার সমাধান উত্তোরণ সম্ভব।

এদিকে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া হাওর ভূমি পুত্র নামে খ্যাত বাকৃবি ১৯৮৪-৮৫ বর্ষের শিক্ষার্থী কৃষিবিদ ড. নিয়াজ উদ্দিন পাশার সহধর্মীনি ফারজানা আশা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য কৃষিবিদরাও।

কৃষি সাংবাদিকতা ও হাওড় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ড. নিয়াজ পাশা। হাওড় অঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুরদশা ও হাওড়ের সম্ভবনা নিয়ে পত্র পত্রিকায় অনেক সংবাদ ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন। এরই ফলশ্রুতিতে দেশে প্রথমবারের মত হাওরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য ইনস্টটিউিট প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে।

Comments

comments