পাকিস্তান নির্বাচন ফল: ইমরান ১১৫, নওয়াজ ৬৪, বিলাওয়াল ৪৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের দু’দিন পর শনিবার (২৮ জুলাই) চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। এতে অনুমিতভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ঘোষিত হয়েছে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

বুধবার (২৫ জুলাই) ভোটগ্রহণের পর বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকাল পর্যন্ত যে ফল পাওয়া যায়, চূড়ান্ত ফলাফলে এর তেমন ব্যতিক্রম ঘটেনি। ইসিপির ঘোষণায় জানানো হয়, নির্বাচনে ২৭২ আসনবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সংসদের ২৭০টি আসনের মধ্যে পিটিআই পেয়েছে ১১৫টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন), তাদের ঝুলিতে গেছে ৬৪ আসন। আর সরকার চালানো আরেক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জায়গা হয়েছে তৃতীয় স্থানে। বেনজির ভুট্টোর পুত্র বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন এ দল জিতেছে ৪৩ আসনে।

এছাড়া ছোট দলগুলোর মধ্যে রক্ষণশীল, ইসলামী, ধর্মীয় ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর মোর্চা মুত্তাহিদা মজলিস আমাল (এমএমএ) পেয়েছে ১২টি আসন। আর পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-কিউ), বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি), মুত্তাহিদা কাওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ও বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) পেয়েছে যথাক্রমে ৪, ২, ৬ ও ৪টি করে আসন।

একটি করে আসন পেয়েছে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি), আওয়ামী মুসলিম লিগ (এএমএল), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসানিয়াত, জামহুরি ওয়াত্তান পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন। এর বাইরে ১৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতে গেছেন এই নির্বাচনে। জটিলতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের দু’টি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এই দু’টি আসনে নির্বাচন হবে একাধিক আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপ-নির্বাচনের সময়।

চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের মধ্যে পাঞ্জাবে ২৯৭ আসন থেকে সর্বোচ্চ ১২৯ আসন পেয়েছে পিএমএল-এন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআই পেয়েছে ১২৩ আসন। সেখানে পিপিপি পেয়েছে ৬টি আসন। সিন্ধ প্রদেশে ১৩০টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭৬টি পেয়েছে পিপিপি। আর পিটিআই পেয়েছে ২৩টি।

খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ৯৭টি আসনের মধ্যে ৯৬ আসনে ঘোষিত ফলাফলে ৬৬টি পেয়েছে পিটিআই, যেখানে এমএমএ, এএনপি, পিএমএল-এন ও পিপিপি পেয়েছে যথাক্রমে ১০, ৬, ৫ ও ৪টি করে আসন। আর বেলুচিস্তান প্রদেশে ৬৫টি আসনের মধ্যে আঞ্চলিক দল বিএপি পেয়েছে ১৫ আসন এবং এমএমএ পেয়েছে ৯টি আসন। সেখানে পিটিআইর ঘরে গেছে চারটি এবং পিএমএল-এন পেয়েছে একটি আসন।

কেন্দ্রে সরকার গঠনের জন্য ২৭২টি আসনের মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজন হয় ১৩৭টি আসনের। সে হিসেবে সর্বোচ্চ আসনধারী পিটিআইয়ের প্রয়োজন আরও ২২টি আসন।

শুক্রবারই (২৭ জুলাই) জোট গঠনের বিষয়ে ইসলামাবাদের বানি গালা এলাকায় দলীয় প্রধান ইমরান খানের বাসভবনে বৈঠক করেন পিটিআই নেতারা। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা ইমরান খানকে সরকার গঠনের জন্য জোটসঙ্গী নিশ্চিত করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

পিটিআই নেতারা দলের চেয়ারম্যান ইমরানকে বলেন, সরকার গড়তে তাদের সমর্থন মিলবে পিএমএল-কিউ, এএমএল, বিএনপি ও বিএপির। এছাড়া এমকিউএমের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এর বাইরে যে স্বতন্ত্র সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১২ জনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে পিটিআই। এদের সবার সমর্থন মিললে সরকার গঠনের জন্য ১৩৭ আসন তো হবেই, ১৪০-১৪২ আসনও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ২১ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমপিরা শপথ নিয়ে নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে ইমরান হবেন সংসদ নেতা এবং সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি গঠন করবেন মন্ত্রিসভা।

সূত্র মতে, নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৬, ১০ ও ১১ আগস্টের মধ্যে করতে চাইছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাতে ১৪ আগস্টের আগেই নতুন মন্ত্রিসভা অফিস করতে পারে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ১৫ আগস্ট উদযাপন হতে পারে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস।

Comments

comments