মাওলানা সা’দ ও তার অনুসারীদের নিষিদ্ধসহ তাবলিগে ৬ সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
তাবলিগের চলমান সংকট নিরসন ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে উলামায়ে কেরামের অবস্থান পরিষ্কার করতে জোর সম্মেলনের আয়োজন করেন উলামায়ে কেরাম। জোর শেষে উলামায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সবাই ঐক্যমত পোষণ করেন। এতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ৬টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তাবলিগের ওয়াজাহাতি জোর অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বয়ান ও দোয়ার মাধ্যমে জোর শেষ হয়।

জোরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো-
১. জমহুর উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন, তিনটি মৌলিক কারণে- (ক) কোরআন ও হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা, (খ) তাবলিগের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তাবলিগ ব্যতীত দ্বীনের অন্যান্য মেহনতকে যথা দ্বীনিশিক্ষা ও তাসাউফ ইত্যাদিকে হেয় প্রতিপন্ন করা।

(গ) পূর্ববর্তী তিন হজরতজি (হজরত মাওলানা ইলয়াস (রহ.), হজরত মাওলানা ইউসুফ (রহ.) ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান (রহ.) এর উসুল ও কর্মপন্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ।

২. মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব হজরত মাওলানা এনামুল হাসান (রহ.) এর রেখে যাওয়া শুরায়ি নেজামকে উপক্ষো করে নিজেই নিজেকে আমির দাবি করেছেন; যা শরিয়ত বিরোধী। তাই তার কোনরূপ সিদ্ধান্ত-ফায়সালা বা নির্দেশ কাকরাইল তথা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত করা যাবে না।

৩. দারুল উলুম দেওবন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শ থেকে সরে গিয়ে নতুন কোনো ফেরকা গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোনো জামাত বা ব্যক্তিকে নেজামুদ্দিনে পাঠানো বা যাওয়া মুনাসিব হবে না।
অনুরূপভাবে নেজামুদ্দিন থেকে আগত কোনো জামাতকে বাংলাদেশের কোনো জেলায়/থানায় ইউনিয়নে কাজ করার সুযোগ দেয়া যাবে না।

৪. হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.), হজরত মাওলানা ইউসুফ (রহ.) ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান (রহ) এর বাতানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ সারা দুনিয়াতে সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছেন।

তাই বাংলাদেশের তাবলিগের কাজ পূর্ববর্তী এই তিন হজরতের পদ্ধতিতে এবং উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা যাবে না। কাকরাইল, টঙ্গী ময়দান এবং জেলা মারকাযসহ সকল মারকায এই নীতিতেই পরিচালিত হবে।

৫. কাকরাইল মসজিদের যে সমস্ত শুরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবের ভ্রান্ত আকিদা অনুসরণের আমরণ হলফনামা করেছেন যা শরিয়ত পরিপন্থী- তারা শুরার সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। অতএব, তাদেরকে বাংলাদেশের তাবলিগের কাজে শুরা ও ফায়সাল না রাখার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

৬. ২০১৮-এর টঙ্গী ইজতেমায় সরকারের সাথে পরামর্শক্রমে আগামী ২০১৯-এর টঙ্গী ইজতেমার জন্য নির্ধারিত তারিখ- প্রথম পর্ব ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারি ও দ্বিতীয পর্ব ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারির সাথে আজকের মজমা ঐকমত্য পোষণ করছে।

উপরোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে এবং বর্তমানে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে সুষ্ঠু বিশৃঙ্খলা রোধে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামানা করা হচ্ছে।

এর আগে প্রধান অথিতির বক্তব্যে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, দেওবন্দের কথা বলি আমরা। নবীজির লাঠির রেখার ওপর প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দ। আমাদের সবকিছু যেন ফতওয়া মোতাবেক হয়। দেওবন্দের ফতওয়াকে ভিত্তি করেই উলামারা কথা বলেছেন। তাবলিগের তিন মুরব্বি যে উসুলে কাজ করেছেন কেয়ামত পর্যন্ত সে উসুলেই চলবে।

তিনি বলেন, ওয়াজের সব মজলিসে বক্তারা তাবলিগের এ উসুলের কথা প্রচার করবেন। আমরা আলেমদের কথামতো চলব। তাবলিগের কাজ করব। অন্য কারো কথা মানব না, আমল করব না। যিনি আলেম না, তিনি কোনো মাজহাব বানালে আপনারা তার কথা শুনবেন না। এই আলেম ওলামা যারা বাংলার সিংহ আপনারা তাদের কথা শুনবেন।

হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক বলেন, তাবলিগও উলামায়ে কেরাম, আওলিয়ায়ে কেরামের কথা মতো করবেন। সবাই গ্রামে গ্রামে জামাত নিয়ে বের হোন। যাতে অন্য কোনো নতুন তাবলিগ শুরু হতে না পারে। মাদরাসা বন্ধ দিয়ে হলেও তাবলিগে বের হতে হবে উলামাদের। নতুন নতুন যারা বিভিন্ন কথা বলছে তাদের কথা মানা যাবে না।

Comments

comments