৭ দিনের রিমান্ডে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৃক গ্যালারির কর্ণধার ও খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে রমনা থানায় দায়ের হওয়া তথ্যপ্রযুক্তির একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আরমান আলী।

‍শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান নূর সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে আসামির রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান। রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানিতে শহিদুল আলমকে ডিবি অফিসে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘তাকে ডিবি অফিসে পেটানো হয়েছে। একসময় রক্তে তার পাঞ্জাবী ভিজে গেলে তা ধুয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে সেই পাঞ্জাবী পরিয়েই তাকে আদালতে আনা হয়েছে। এখনও পাঞ্জাবী ভিজে আছে।’

অনুমতি নিয়ে শহিদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, এক ছাত্রীর পরিচয় দিলে আমি দরজা খুলে দিই। এ সময় আড়ালে থাকা ১০/১২জন আমার বাসায় প্রবেশ করে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তারা আমাকে মাইক্রোবাসে তোলার পর হাতকড়া পরায় ও চোখ বেঁধে ফেলে, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এরপর একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। রক্তে তার পাঞ্জাবী ভিজে যায়।’

এরপর ব্যারিস্টার সারা হোসেন আসামির রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে তাকে মারধরের কথা অস্বীকার করেন আদালতের রমনা থানার জিআরও মাহমুদুর রহমান।

এর আগে রোববার (০৫ আগস্ট) রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে শহিদুলকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। একই অভিযোগে গণমাধ্যমে বিবৃতিও দেয় দৃক গ্যালারি।

পরে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, শহিদুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়ে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলাটি করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ফেসবুক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চলমান আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শহিদুলের স্ত্রী রেহনুমা জানান, চলমান ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে শহিদুল সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ফেসবুকেও বিভিন্ন সময় লাইভে এসে কথা বলেন তিনি।

Comments

comments