বাকৃবিতে শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কনফারেন্স হলে জাতীয় শোক দিবস ২০১৮ উপলক্ষে “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলী আকবর।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্যের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্যের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন ২০৪১ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার আহবান জানান।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভপতি মো: সবুজ কাজী এর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল এর সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যারয়ের শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স পরিষদ, কর্মচারী সমিতি এবং ছাত্র নেতৃবৃন্দ,  বিভিন্ন হল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে প্রচারিত এক বাণীতে ভাইস-চ্যান্সেলর উল্লেখ করেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এদেশের অবিসংবাদিত নেতা, ইতিহাসের মহানায়ক। বাংলার মানুষের প্রতি ছিল তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অকৃত্রিম দরদীমন। তিনি সর্বদা আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি মানুষের কথা ভেবেছেন। তাঁদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেছেন। দুঃখী দারিদ্র্যক্লিষ্ট বাংলার মানুষের মুখে তিনি বার বার হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। সমগ্র বিশ্বে বাঙালী তার মেধা, শ্রম ও প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে এই ছিল তাঁর স্বপ্ন। তাঁরই নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ, পেয়েছি লাল-সবুজে মহিমান্বিত জাতীয় পতাকা। তাইতো বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন মাটি ও মানুষের, কৃষি ও কৃষকের একান্ত আপনজন। সদ্য-স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সবুজ বিপ্ল¬বের সূচনা হয়। তিনি ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার কৃষকদের সমস্ত বকেয়া খাজনা ও সুদ তিনি মাফ করে দিলেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে মওকুফের ঘোষণা দিলেন। জাতির জনকের নির্দেশে তৎকালীন সরকার পূর্ব জার্মানী থেকে বিমানে করে ৩৮,০০০ সেচযন্ত্র এবং ফিলিপাইন থেকে ‘আইআর ৮’ জাতের ধানের উন্নত বীজ আমদানী করে বিনামূল্যে কৃষকের মাঝে বিতরণ করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। সে সময় তিনি কয়েক লক্ষ কৃষি ঋণের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে খাস জমি বিতরণ এবং চাষীদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মপুত্রের পলল সমভূমি বিধৌত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে এলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অপার আনন্দে উদ্ভাসিত ছাত্র-শিক্ষক-জনতার সম্মিলিত সভায় বক্তব্য দানকালে তিনি কৃষিবিদদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন। ফলশ্রুতিতে কৃষিবিজ্ঞানীগণ সরকারী চাকরিতে গৌরবময় প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোন। বঙ্গবন্ধু কর্র্তৃক গৃহীত এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলেই দেশের সার্বিক কৃষি উৎপাদনসহ কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় ঘটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রাণ-সঞ্চার।

বঙ্গবন্ধুর এ অবদানকে সম্মান জানিয়ে আমাদের সকল সদিচ্ছাকে সুসংহত করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে ব্রতী হবো- আজকের এ বেদনাবিধূর দিনে এটিই আমার প্রত্যয়।

Comments

comments