শেকৃবির তিন শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) তিন শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। আর অভিযোগটি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক (বর্তমানে ইংল্যান্ডের নটিংহাম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডিরত) পূর্বা ইসলাম ও সরকারি চাকুরিতে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সেলিম জাহান।

থিসিসের দুই স্বত্বাধিকারীর পক্ষ থেকে থিসিস চুরির এমন অভিযোগ লিখিতভাবে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। অভিযোগ করা হয়েছে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনেও (ইউজিসি)।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তরা হলেন, শেকৃবির ফার্মাকোলজি অ্যান্ড টক্সোলজি বিভাগের শিক্ষক রূপালী আক্তার, প্রোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আফতাবুজ্জামান, প্রোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও আনোয়ারুল হক বেগ এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবদুল ওয়াদুদ সরকারের নাম।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট ডিন অধ্যাপক মোঃ জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে এবং অবশ্যই সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে তদন্তের আগে তারা কেউই এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ট্রেজারার মোঃ আনোয়ারুল হক বেগ স্বীকার করেছেন তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। বাকি তিনজন বলেছেন যে স্যার আপনার নাম দিয়ে দেই। তার পরেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা ট্রেজারারের। অন্য শিক্ষকদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও শিক্ষক রূপালী আক্তার বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে পারবেন না।

পূর্বা ইসলাম বলেছেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে প্রকাশের পর আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উপাচার্য, ডিন স্যারসহ সংশ্লিষ্টদের আমি মৌখিকভাবে জানানোর পর তারা লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। বুধবার আমরা লিখিতভাবে সকল তথ্য প্রমাণসহ জানিয়েছিলাম। কারো কারো পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে জার্নাল থেকে লেখা প্রত্যাহার ও আপোসের কথা বলা হলেও আমি বলেছি এটা আইনত গুরুতর অপরাধ। তিনি আশা করেন উপাচার্যসহ স্যাররা অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নেবেন এ জালিয়াতির বিষয়ে।

তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আর্সেনিক একিউমুলেশন অব এ্যানিমেল ফিড (গ্রাস এ্যান্ড ওয়াটার হায়সিন্থ) ইন ফরিদপুর সদর উপজেলা (জে.শের-ই-বাংলাএগ্রিক. ইউনিভ. ৮(২), ৩১-৩৮ জুলাই ২০১৪) প্রবন্ধটি অবৈধ এবং অনৈতিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রবন্ধে উল্লেখিত গবেষণা কাজ আমি এবং তৎকালীন এমএস ছাত্র মোঃ সেলিম জাহান এর যৌথ গবেষণা কাজ। এই প্রবন্ধটি আমাদের প্রস্তুতকৃত বা প্রেরিত নয়। এমনকি আমরা এ ব্যাপারে অবগতও নই কিংবা প্রকাশের অনুমতিও প্রদান করিনি। প্রথম লেখক মোঃ সেলিম জাহান ব্যতীত বাকি লেখকবৃন্দের এই গবেষণা কাজে কোন প্রকার সম্পৃক্ততাও নেই। এমতাবস্থায় এই প্রবন্ধটি অতি শিগগিরই জার্নালটি থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারসহ মেধাস্বত্ত্ব লঙ্ঘনের অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বাধিত করবেন। বাংলাদেশের সচেতন সুনাগরিক হিসেবে আমরা আপনাদের কাছে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশী।

সেলিম জাহান বলেন, আমি ওই জার্নালে প্রকাশের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার থিসিস যে প্রকাশ করা হবে বা করা হয়েছে কিছুই তারা আমায় জানাননি। পরে জানতে পেরে অভিযোগ দিয়েছি। এটা অনেক বড় অন্যায়।

জানা গেছে, জার্নালে সেলিম জাহানের নাম দেয়া হলেও আরো যুক্ত করা হয়েছে ট্রেজারার মোঃ আনোয়ারুল হক বেগ, শিক্ষক রূপালী আক্তার, মোঃ আবতাবুজ্জামান ও একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবদুল ওয়াদুদ সরকারের নাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথম লেখক মোঃ সেলিম জাহান ব্যতীত বাকি লেখকবৃন্দের এই গবেষণা কাজে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেছেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন।

লিখিত অভিযোগ নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে এবং অবশ্যই সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। ডিন অধ্যাপক মোঃ জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ নিয়ে দ্রুত কাজ করা হবে। সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে এখনই এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ট্রেজারার মোঃ আনোয়ারুল হক বেগ স্বীকার করেছেন তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

Comments

comments