দেশে প্রথম হাইব্রিড পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করল ‘লাল তীর’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
উদ্ভাবন হলো বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব হাইব্রিড পেঁয়াজের জাত। দেশের মাটি ও আবহাওয়ায় চাষোপযোগী জাতটি উদ্ভাবন করেছে লাল তীর সিড লিমিটেড। উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন উদ্ভাবিত জাতের বীজের নামকরণ করা হয়েছে ‘লাল তীর হাইব্রিড পেঁয়াজ বীজ’। বীজটি এ বছরই বাজারে ছাড়তে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, পেঁয়াজের নতুন এ জাত স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ফলনশীল। এর একরপ্রতি উৎপাদনশীলতা ১২ টন। প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন ৫০-৬০ গ্রাম। এ জাতের পেঁয়াজ তুলনামূলক বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। বাড়তি উৎপাদনশীলতার কারণে এটি আবাদ করে অতিরিক্ত মুনাফা পাবেন কৃষকরা। যেখানে জমিতে স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ আবাদে কৃষকের গড় আয় একরপ্রতি ৬৩ হাজার ৬০০ টাকা, সেখানে লাল তীরের বীজ আবাদ করে এটি দাঁড়াবে ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকায়। স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ আবাদে কৃষকের একরপ্রতি গড় মুনাফা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৩৫০ টাকায়। এর বিপরীতে লাল তীরের হাইব্রিড জাতে মুনাফা দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫০ টাকায়। অর্থাৎ বাড়তি উৎপাদনশীলতার কারণে জাতটি আবাদ করে প্রতি একরে প্রায় সোয়া ২ লাখ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা তুলতে পারবেন কৃষকরা।

নতুন জাতটির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পেঁয়াজের স্থানীয় জাতগুলোর অঙ্কুরোদ্গমক্ষমতা গড়ে ৪০-৫০ শতাংশ। কিন্তু লাল তীর হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৮০ শতাংশ। এক কন্দবিশিষ্ট প্রতিটি পেঁয়াজের রঙ ও আকৃতি অভিন্ন।

জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর গবেষণার পর উদ্ভাবন করা হয়েছে জাতটি। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও জাতটি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান। নানা ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে অভিযোজনক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য জাতটি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়েও আবাদ করেছে লাল তীর।

এ বিষয়ে লাল তীর সিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, বছরজুড়ে পেঁয়াজের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ায় চাষোপযোগী জাতটি আবাদ করে কৃষক বাড়তি মুনাফা পাবেন। পেঁয়াজের আমদানি ব্যয় কমানোর মাধ্যমে দেশের অর্থ সাশ্রয় করবে জাতটি। এছাড়া এর স্বাদও প্রচলিত জাতের মতোই। কড়া ঝাঁজের পেঁয়াজটির রঙ ও স্বাদ দেশী তাহেরপুরী পেঁয়াজের মতোই। এটি প্রায় সারা বছর সংরক্ষণোপযোগী। সংরক্ষণকালে এর ওজন কমবে খুবই সামান্য।

তথ্যমতে, দেশে পেঁয়াজের আবাদ এখনো রবি মৌসুমেই সীমাবদ্ধ। দেশে পণ্যটির বার্ষিক চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১৯ লাখ টন। ফলে প্রতি বছরই চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১০ লাখ টনের কাছাকাছি। আমদানির মাধ্যমে এ ঘাটতি মেটাতে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। গত বছরও দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে আট লাখ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্যটি আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৩২ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

লাল তীরের গবেষকরা বলছেন, যদি দেশে পেঁয়াজ চাষে ব্যবহূত মোট জমির ৩০ শতাংশকেও নতুন উদ্ভাবিত জাতটির আবাদ এলাকার আওতায় নিয়ে আসা যায়, তাহলে দেশের বার্ষিক উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ লাখ টনে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা সম্পূর্ণ মেটানোর জন্য এটুকু যথেষ্ট। ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া কৃষকসহ পেঁয়াজ উৎপাদন ও বিপণনে জড়িত বিপুল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক তথা সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

Comments

comments