ভর্তি পরীক্ষা অভিশাপ

ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন:
আমি নিজে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, বিগত প্রায় এক যুগ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের চরম ভেগান্তির অবসানের পথ খুঁজে পাওয়া নিয়ে- বিশেষ করে গত বৎসর যখন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ২০১৮-১৯ সেশন থেকে অন্তত গুচ্ছ পদ্ধতিতে হলেও ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজিতে এবারও পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভেগান্তির কোন সুরাহা হলো না। আর কখনো হবে বলেও মনে হচ্ছে না।

২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের বেশ কয়েকটি সভায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ভর্তি পরীক্ষা সবার জন্য সহজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।

সে জন্য বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ২০১২ সালে সকল ভাইস-চ্যান্সেলরদের সভায় “গুচ্ছ পদ্ধতি” অনুসরন করে বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিয়য় হলো মুষ্টিমেয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনমনীয় মনোভাবের কারনে তা এক দশকেও কোনভাবেই সম্ভব হয়ে উঠেনি। সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে কোন ভাবেই যেন ভাল কিছু করার কোন উপায় নেই। স্বার্থান্বেষী মহল সব কিছু যেন আকড়ে ধরে আছে। ওদের হিংস্র থাবানল থেকে কারো মুক্তি নেই। সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলি অরাজকতার আখরায় পরিনত হয়েছে। আইনের শাসন আজ ভূলুণ্ঠিত।

“আইন না মানাই” সকল ক্ষেত্রে আইনে পরিনত হয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা ও মেধা সৃষ্টি আজ নির্বাসনে। চাকুরি পাবার জন্য লেখাপড়া বাদ দিয়ে মাসের পর মাস কোঠার জন্য আন্দোলন হয় কিন্তু শিক্ষা উন্নয়নে শিক্ষার্থীরা নিকট অতীতে কোন আন্দোলন করছে কিনা তা মনে পরছে না। শুধু তাই নয় ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফরমের মূল্যও প্রতি বৎসর বেড়েই চলেছে এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা সমন্বিত হারও নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি প্রতি বৎসরই সীমানা অতিক্রম করছে।

কোথাও যেন কোন নিয়ন্ত্রন নেই। শিক্ষা নিয়ে সর্বত্র যে বানিজ্য চলছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ভর্তি পরীক্ষাও তা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

ভর্তি পরীক্ষায় অবিলম্বে আমুল পরিবর্তন সাধন এনে নুন্যতম গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের ভোগান্তি নিরসনের পদক্ষেপ নেবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

 

__________________________________
ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন
প্রফেসর, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২

Comments

comments