বাকৃবিতে গবেষণা: বিলুপ্তপ্রায় ভাগনা মাছের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলোর মধ্যে ভাগনা (Labeo ariza) অন্যতম। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মানবসৃষ্ট কারণে ভাগনা মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল দিনের পর দিন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের আত্রাই, যমুনা, কংস ও ব্রহ্মপুত্র নদীগুলোতে এটি অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। মাছটি আকারে ৩০ সে.মি. এবং ওজনে প্রায় ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। মাছটি পুকুরের শেষ স্তরের খাদক। কম বয়সে এরা জুওপ্ল্যাংটন এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে সব খাবারই খায়। ভাগনা মাছটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট রয়েছে, তাই এরা খেতে সুস্বাদু।

বিলুপ্তিপ্রায় মাছটিকে বাঁচানোর জন্য সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে মরহুম অধ্যাপক ড. মুখলেসুর রহমান গবেষণা শুরু করেন। পরবর্তীতে ভাগনা মাছকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচিয়ে প্রাকৃতিক জলাশয়ে ধরে রাখতে এবং চাষের আয়তায় আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যজ্ঞিান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. কে. শাকুর আহমদ এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলাম কাদের খান।

ভাগনা মাছের উপর গবেষণায়টির আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও ন্যাশনাল এগ্রো টেকনোলজি ফেইজ-২।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. এ. কে. শাকুর আহমদ বলেন, ‘গবেষণার জন্যে আমরা বাংলাদেশের ৩টি অন্যতম নদী দিনাজপুরের আত্রাই, ময়মনসিংহের কংস এবং সিরাজগঞ্জে যমুনা থেকে প্রাকৃতিক ভাগনা মাছের পোনা জেলেদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি। জাত উন্নয়নের জন্য ওই নদীগুলোর মাছদের মধ্যে সংকরায়ন করি। এতে আমি লাইন ব্রিডিং পদ্ধতি অনুসরণ করি। গবেষণায় লাইন ব্রিডিং এর মাধ্যমে ভাগনা মাছের উচ্চ গুণাগুণ সম্পন্ন পোনা উৎপাদনে সফলতা এসেছে।’

গবেষণার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘লাইন ব্রিডিং কৌশলে ভাগনা মাছের পোনা উৎপাদন বাংলাদেশে এই প্রথম। পদ্ধতিটির মাধ্যমে ভাগনা মাছের সংরক্ষণ ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে উচ্চ গুণসম্পন্ন পোনা উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। সেই সাথে আমিষের চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাছটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

Comments

comments