আইএসের যৌনদাসী থেকে শান্তিতে নোবেল পেলেন নাদিয়া মুরাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নোবেল জয় করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিযে দিয়েছেন ইরাকের ইয়াজিদি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ। বাস্তবতার কঠিন নির্যাতনের জাল থেকে বেরিয়ে এসে ঘুরে দাঁড়িয়ে কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এ পুরস্কারটি অর্জন করলেন তিনি, তা নিয়ে অবাক এখন বিশ্ব মহল।

কেননা, নাদিয়া ছিলেন জঙ্গি সংগঠন আইএসের যৌনদাসী। বন্দি থেকে পাশবিক লালসার শিকার হয়ছেন বহু। ক্ষান্ত হননি তবুও। পালিয়ে এসে কঠিনভাবে ঘুরে দাঁড়ান নিজেকে নিয়ে। অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন নারী নিযাতনের বিরুদ্ধে। ব্যাপক ইতিবাচক সাড়াও ফেলেছিলেন তিনি। আর এমন অবদানই এখন তাকে এনে দিয়েছে নোবেল।

এর আগে ২০১৪ সালের আগস্টে ২৫ বছর বয়সী ওই নারীকে উত্তর ইরাকের কোজো এলাকা থেকে ধরে নিয়ে আইএসের একটি পক্ষের কাছে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয় আরেকটি পক্ষ।

এরপর সিরিয়ান, ইরাকি, তিউনিসিয়ান ও ইউরোপিয়ান আইএসের লোকের নিষ্ঠুর লালসার শিকার হতে হয়েছে তাকে। যন্ত্রণায় কেটেছে তার প্রতিটি মুহূর্ত। একপর্যায়ে অনেক কষ্ট-সংগ্রাম-কৌশল করে তিন মাস পর নভেম্বরে পালিয়ে আসেন তিনি। যোগ দেন আইএসের হাতে বন্দি ইয়াজিদি নারীদের মুক্তির জন্য লড়াইয়ে। রুখে নারী পাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। পরিণত হন ইয়াজিদিদের মুক্তির প্রতীকে। এছাড়া ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি কঠিন ভূমিকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যা আজ তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করলো।

শুক্রবার (০৫ অক্টোবর) ওসলোতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দু’জনের নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান কমিটি। তার মধ্যে একজন নাদিয়া।

তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে- যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে অনন্য প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে।

যৌন নিপীড়িত-নির্যাতিত এই নাদিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে কাজ শুরু করেন ইয়াজিদি সম্প্রদায়সহ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের শরণার্থীদের আইনজীবী হিসেবে। মানবাধিকার আদায়ে এই ভূমিকার জন্য তাকে একবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সম্মানজনক শাখারভ পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়েছিল।

বুকে সাহস সঞ্চয় করে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নাদিয়া রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। আর বলছিলেন, আইএস আমাদের সম্মান নিতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন তারা সম্মান হারিয়েছে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্যানেলের সামনে নিজের ভয়ানক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন নাদিয়া।

সেসময় তিনি বলেছিলেন, আমাদের যখন বন্দি করা হলো, তখন ওদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে শোনা কথাগুলো স্মরণ করে মনে-প্রাণে চাইছিলাম, এমন পাশবিক লালসার শিকার হওয়ার আগে যেনো আমাদের মেরে ফেলা হয়। কিন্তু ওরা আমাদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিলো তাদেরই আরেকটি পক্ষের কাছে। এরপর কী যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে! প্রতিটা মুহূর্তে মনে হয়েছে, আমাদের মেরে ফেলা হয় না কেনো, কেনো আমাদের এভাবে তিলে তিলে নির্যাতন করা হচ্ছে?

নাদিয়ার সেই বক্তব্য ছিল এমন- তিন হাজারেরও বেশি নারী আইএসের হাতে যৌনদাসী হিসেবে বন্দি রয়েছে। আইএস এই হতভাগ্যদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে! ইচ্ছেমতো জায়গায় বিক্রি করছে নারীদের।

Comments

comments