জাককানইবিসাস নির্বাচনে ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ!

জাককানইবি প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) সাংবাদিক সমিতির (জাককানইবিসাস) নির্বাচনে শাখা ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পরামর্শ বিষয়ক পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত জাককানইবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফলাফল ঘোষণার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার দাবি জানায়।

তারা শাখা ছাত্রলীগ কর্মী বদরুল আলম বিপুলকে সভাপতি ও রাশেদুজ্জামান রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে জাককানইবিসাস কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তা গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে যাওয়ায় সাংবাদিকরা অস্বীকৃতি জানান।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পরামর্শ বিষয়ক পরিচালক ড. সাহাবদ্দিন বাদল ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম হাফিজুর রহমানসহ গণমাধ্যমকর্মীদের দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। কার্যালয়ে আসবাবপত্র ভাংচুরও করে তারা। এমনকি, সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়।

এ সময়, নির্বাচনে অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত খাবার নিয়ে তারা চলে যায়। জোর করে সমিতির ১০ জন সদস্যের সাক্ষর নিয়ে কমিটি গঠন করে চলে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিষয়টি উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানার পর নিন্দা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাককানইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। আমাকে না জানিয়েই যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ব্যাপারে আমিও ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি আমি দেখবো।’

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অবহিত হয়েছি এবং জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনে সভাপতি পদে ওয়াহিদুল ইসলাম এবং বদরুল আলম বিপুল দুজনই সমান ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে রাশেদুজ্জামান রনিকে ৪ ভোটে হারিয়েছেন নিহার সরকার অঙ্কুর।

Comments

comments