গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ

গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তথা হিজড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়। তারই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তার মত গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়োগ দিতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন সুমনা ও আঁখি। তারা দুজনই সাভারের পল্লীবিদ্যুত এলাকার হিজড়াদলের সদস্য ছিলেন।

এর আগে গত ১ অক্টোবর এই বিশ্ববিম্যালয়ে প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নূরমালা নীলা। এনিয়ে এখন ক্যাম্পাসে তাদের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ যেন নিজেদের সমাজের জন্য বোঝা মনে না করেন, তারা যেন আর দশজন সাধারণ মানুষের মত নিজেদের সকল কাজে নিয়োজিত করতে পারেন; সেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই আমাদের এই উদ্দ্যোগ। আমরা চাই তারা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ মানুষের মত এই সমাজে বসবাস করুক। তাই তাদের জন্য উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা করাসহ আমাদের এমন উদ্দ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর মধ্যে সমন্বয়কারী শিক্ষকদের একজন ইংরেজী বিভাগের সাকিনা আক্তার বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো আমাদের সমাজে যেভাবে অবহেলিত ও অপমানিত হয়, তা সভ্য মানুষ হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। সমাজে আমরা শুধু তাদের তিরস্কারই করি, কিন্তু কখনো কোনো কাজের সুযোগ দেই না। কিন্তু এটা খুব সত্যি কথা যে, সুযোগ পেলে তারা আমাদের মতই কাজ করার যোগ্যতা রাখে।

প্রথম নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত নূরমালা নীলা বলেন, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি আমি সমাজের অন্যদের থেকে আলাদা ,তখন থেকেই অবহেলা, তিরস্কার, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। তাই যখন আমাকে স্যারদের পক্ষ থেকে এখানে আসতে বলা হয়েছিল তখন আমি রাজি হইনি। ভেবেছি এমন একটি জনবহুল জায়গায় হয়ত আমাকে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হবে। কিন্তু এখানে আসার পর থেকে আমার ধারণা পাল্টাতে থাকে। আমিও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। তাই আমি আমার সঙ্গের অন্যদের এখানে আসার জন্য বলি। এখন আমি আর নিজেকে ছোট মনে করি না বরং একজন মানুষ মনে করি।

Comments

comments