পঞ্চগড়ে বাম্পার ফলন আমন ধানের

নিউজ ডেস্ক:

পঞ্চগড় জেলার মাটি ভৌগলিক কারণেই হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হিসেবে উঁচু, বেলে ও বেলে দোআঁশ মাটি। গেল বছরের বন্যায় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় ব্যপক কৃষির ক্ষতিসাধন হয়। চলতি বছরে বন্যার তেমন কোনো প্রভাব পঞ্চগড় জেলায় পরেনি।

তারই ফলশ্রুতিতে এবছর আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। তবে দাম নিয়ে কৃষকরা সংসয় প্রকাশ করছেন। সরকার যদি ধানের ন্যায্য মূল্য না দেয় তবে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

সদর উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহলের হুদুপাড়া গ্রামের ধানচাষী হরেন্দ্রনাথ রায়, অশ্বিনী কুমার রায়, রফিকুল ইসলাম বলেন, এবছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ধান ঘরজাত করতে পারলে গত বছরের বন্যার ক্ষতি পুষিতে নিতে পারবেন তারা। মাত্র ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা মণ দরে যদি ধান বিক্রয় করতে হয় তবে ধান চাষী খরচের টাকা উঠাতে পারবে না। সরকার যদি ধানের ন্যায্য মূল্য না দেয় তবে ধান চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

একই অবস্থা জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ধান চাষীদের। এই উপজেলার পামুলী, সোনাহার, দণ্ডপাল ইউনিয়নের চাষীদের গত বছরের বন্যায় ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবছর আমন ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।

সেনপাড়া গ্রামের ধান চাষী ইসমাইল, সোবহান, জসিম উদ্দিন বলেন, ধানের ন্যায্য বাজার না পেলে তাদের ধান চাষের খরচই উঠবে না।

পঞ্চগড় কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক, উদ্ভিদ সংরক্ষক মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, জেলায় এ বছর ৯৭১১৮ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৮৮৬৫৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল, ৮১৯৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ১০৬৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। ধানের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। কৃষকরা ধানের ভালো বাজার পেলে আগামীতে ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

 

Comments

comments