মল-মূত্র থেকে তৈরি ঘরে বসবাস!

জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে অনেক কম আয়ের রাষ্ট্রেই দুটি সমস্যা পাশাপাশি দেখা দেয়। এগুলো হলো পয়ঃনিষ্কাশন ও থাকার জায়গার অভাব। অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ড. আব্বাস মোহাজেরানি এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন। তিনি মল-মূত্র দিয়েই ঘর তৈরির একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। প্রশ্ন হলো, ওই ঘরে মানুষ থাকতে পারবে তো?

অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির ওই গবেষক পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য থেকে নিরাপদ, গন্ধহীন ইট তৈরি করেন। পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর মল ও মূত্রের যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় বায়োসলিডস। কিছু বায়োসলিডস সার হিসেবে এমন সব উদ্ভিদে দেওয়া হয়, যা মানুষ খায় না, যেমন কাঠের গাছ। এসব কারণে পৃথিবীর প্রায় ৩০ শতাংশ বায়োসলিডস কোনো কাজে আসে না, শুধুই দূষণ ঘটিয়ে যায়। এই বায়োসলিডস পুড়িয়ে ইট তৈরি করেন ড. মোহাজেরানি। তিনি আরও দেখেন, তা আসলে মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইটের তুলনায় বেশি কার্যকরী।

সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর তিন বিলিয়ন কিউবিক মিটার মাটি ব্যবহার করা হয় প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ইট তৈরির জন্য। এই পদ্ধতিতে অনেক জ্বালানি দরকার হয় আর তা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে ভূমিকা রাখে। ইট ভাটা স্থানীয় পরিবেশও নষ্ট করে। এর চেয়ে বায়োসলিডস থেকে ইট তৈরি করতে অনেক কম জ্বালানি দরকার হয়।

ড. মোহাজেরানি সাধারণ ইট তৈরির উপকরণের সাথে ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ বায়োসলিডস মিশিয়ে তা দিয়ে ইট তৈরি করা যায় কি না দেখেন। ২৫ শতাংশ বায়োসলিডসের ইট পোড়াতে কম জ্বালানি লাগে, আর তার ভেতরে বায়ু থেকে যায় অনেক বেশি। এ ইটে তৈরি ঘর গরম বা ঠান্ডা করা যাবে সহজেই। তাতে কোনো গন্ধ হয় না, আর বৃষ্টি হলেও তা নিরাপদ থাকে।

Comments

comments