বিএফআরআইয়ে ‘স্বাদু পানির ঝিনুকে মুক্তা চাষ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

বাকৃবি প্রতিনিধি:

দেশে মুক্তা চাষের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) মুক্তা চাষ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ শীর্ষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওয়তায় প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। গত রবিবার সকাল ১০ টায় বিএফআরআইয়ের কমিউনিটি সেন্টারে দুই দিনব্যাপী স্বাদু পানির ঝিনুকে মুক্তা চাষ শীর্ষক প্রশিক্ষণের আয়োজন উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল তিনটায় সনদ বিতরণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশিক্ষণে মুক্তা বিজ্ঞানীরা বলেন, মুক্তা পৃথিবী খ্যাত একটি মূল্যবান এবং আভিজাত্যের প্রতীক যা শুধুমাত্র জীবিত ঝিনুকের দেহে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরণের মনোমুগ্ধকর অলংকার তৈরি করা ছাড়াও মুক্তার আরো অনেক ব্যবহার রয়েছে। মুক্তা চূর্ণ বিভিন্ন ঔষধের কাঁচামাল হিসেবে এবং প্রসাধন সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরিসহ আরো অনেক কাজে মুক্তার ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশের উষ্ণ আবহাওয়া ঝিনুক চাষ ও মুক্তা উৎপাদনের জন্য অনুকূল হওয়ায় সহজেই মাছের সাথে একত্রে মুক্তা চাষ করা সম্ভব। মাছের সাথে মুক্তা চাষে অতিরিক্ত কোনো খাবার বা তেমন কোন পরিচর্যার দরকার হয় না বলে সহজেই একজন মাছ চাষী এখান থেকে বাড়তি আয় করতে পারে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেকার যুব সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। মুক্তা চাষ প্রযুক্তি অনেকটা সূচ শিল্পীর মতো যা নারীরায়হান সহজেই আয়ত্ত করতে পারে এবং ঘরে বসেই সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় করে নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। অনুষ্ঠানে মুক্তা গবেষণা দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মোহসেনা বেগম তনু, প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু রায়হান, সানিয়া স্কু, নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তা চাষ প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের একটি প্রকল্প। তিনি বলেন, আমাদের জলবায়ু ও পরিবেশ মুক্তা উৎপাদনের উপযোগী। মাছের সাথে ঝিনুক চাষ করলে বাড়তি কোন খরচ ছাড়াই খামারিরা অধিক আয় করতে পারবে। স্বল্প পুঁজিতে গ্রামীণ মহিলাদের মুক্তা উৎপাদনে সহজেই সম্পৃক্ত করতে পারলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে সহায়ক হবে।’

বিএফআরআই মুক্তা গবেষণা দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মোহসেনা বেগম তনু জানান, আমাদের দেশে দেশে মুক্তা উৎপাদনকারী চার প্রজাতির মিঠাপানির ঝিনুকের মধ্যে ২ প্রজাতির ঝিনুক ইমেজ মুক্তা উৎপাদনে অধিকতর উপযোগী। ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় আকৃতির স্বাস্থ্যবান ঝিনুক বাছাই করা হয়। পরে চ্যাপ্টা আকৃতির বস্তুর (মোম, প্লাস্টিক, স্টিল) প্রতিচ্ছবি ঝিনুকে স্থাপন করে পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয়। ঝিনুক পুকুরে ছাড়ার পর থেকে ৭-৮ মাস পরই ওই নকশার উপর ঝিনুকের আঠালো রস পড়ে হুবহু ওই আকৃতির ইমেজ মুক্তা উৎপাদিত হয়। প্রতি শতাংশে ৮০-১০০টি ঝিনুক মজুদ করে ইমেজ মুক্তার উৎপাদন ও বৃদ্ধি সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে। অপারেশনকৃত ঝিনুকের বেঁচে থাকার হার ৮০ শতাংশ পাওয়া গেছে।

Comments

comments