এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহাপরিচালককে স্মারকলিপি দিলো ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিককে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিটি প্রদান করেন। তিনি স্মারকলিপিটি পড়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিবেন।।

এরপর শিক্ষার্থীরা কলেজের অচল অবস্হা নিরসনসহ তাদের দাবী সম্বলীত আরেকটি স্মারকলিপি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হাতে তুলে দেয় এবং সকল দাবী মেনে নিয়ে কলেজটিকে অতিদ্রুত খুলে দিতে অনুরোধ জানান।

এসময় মহাপরিচালক মহোদয় ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করে জানান, তাদের দাবীটি যথাযথ কতৃপক্ষকে জানাবেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে যথাসম্ভব সাহায্য করবেন। এ সময় তিনি আরো বলেন আমি তোমাদের অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে তোমাদের দাবীর স্বপক্ষে আমার মতামত দিয়েছিলাম এখনও বিষয়টি নিয়ে আমি কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

এখানে উল্লেখ্য যে, বতমান মহাপরিচালক মহোদয় ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক ২০১৫ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০১৭ সাল পযন্ত ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় কলেজকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবিকে কেন্দ্র করে ২৭/১০/২০১৫ তারিখে ততকালীন মহাপরিচালক বরাবর প্রকল্পের মেয়াদ শেষে উথাপিত বিষয়টি বিবেচনার দাবি করে লিখিত মতামত দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি কলেজটিতে ছয়টি ব্যাচে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে তাদের আবাসন, চিকিৎসা, ইন্টানীভাতা, নিরাপত্তাসহ বহুবিদ সমস্যায় জজরিত এমনকি কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবদি পযাপ্ত স্হায়ী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ্ হয়নি যার কারণে কলেজটি একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।

এরই ফলশ্রুতিতে কলেজটিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হিসাবে অন্তর্ভুক্তি করণের দাবিতে গত (২৫ শে ফেব্রুয়ারী) সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা কলেজের প্রধান ফটক, প্রশাসনিক ভবনসহ সকল রুমে তালা ঝুলিয়ে সকল দাফতরিক কাজ বন্ধসহ ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ করে রেখেছিল শিক্ষার্থীরা কিন্তু ক্যাম্পাসের পরিস্হিতি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শুক্রবার (১লা মাচ) সকাল থেকে জেলা প্রশাসন ও কলেজের আইন শৃঙ্খলা কমিটি জরুরি সভা করে কলেজটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।।

পরিশেষে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ  গত ডিসেম্বর-২০১৮ সালে সমাপ্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এই কলেজটিও বিগত চারটি ভেটেরিনারি কলেজের অনুরূপ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হিসাবে অন্তর্ভুক্তির দাবি করে আসছে এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসকসহ সরকারের উচ্চ সকল পর্যায়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি থাকলে তাদের সকল সমস্যা সমাধান হবে বলে তারা মনে করেন কিন্তু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি পত্র প্রদান না করায় বিষয়টি ঝুলে আছে ।

Comments

comments