শপথের দিনে মোদিকে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এবার শপথের দিনে মিলল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনছে ভারত। আর এই কারণেই যত রাগ যুক্তরাষ্ট্রের। এর আগে ২০১৪ সালে চীন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মস্কোর কাছ থেকে দিল্লির এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্ত অর্থপূর্ণ। এটা বড় কোনো ব্যাপার নয় বলে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা আমরা মানতে পারছি না।’ একই সঙ্গে তার হুঁশিয়ারি, ভারত-মার্কিন সম্পর্কে এর ‘গুরুতর প্রভাব’ পড়বে।

গত বছর ৫ অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সময় ৫০০ কোটি ডলার দিয়ে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে দুই পক্ষের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিবৃতি দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এস-৪০০ হস্তান্তর শুরু হবে ২০২০-এ। আর তা শেষ হবে ২০২৩ সালের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমি তা মনে করছি না। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ মোকাবিলার আইন (সিএএটিএসএ)-এর দিক দিয়ে ওই প্রতিরক্ষা ক্রয় তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে এতে। ভারত যদি এস-৪০০ কেনা নিয়ে এগোয়, তবে ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তা গুরুতর প্রভাব ফেলবে।’

তিনি এ সময় মনে করিয়ে দেন, মিত্র দেশ বলে আপনা-আপনি ছাড়ের কোনো সুযোগ নেই ‘সিএএটিএসএতে’। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হয় এই আইনে।

শুধু আইনি কাঁটা নয়, রাশিয়া-ভারত সামরিক সহযোগিতার অন্য একটি দিকের কথাও সামনে আনছেন মার্কিন ওই কর্মকর্তা। আর সেটি হলো, অনেক দেশের সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে তথ্য বিনিময় করাটা বিপদের।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর ২০১৫ থেকে তিন বছর অনেক জটিল পরিস্থিতি সামলেছেন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। এরও আগে চার বছর ছিলেন চীনে। নতুন মন্ত্রীসভায় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু তার প্রথম দুটি চ্যালেঞ্জ আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এসে রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক অস্ত্র আর ইরান থেকে তেল কেনা- এই দুই ক্ষেত্রেই বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

Comments

comments