১২ দিন ধরে ৬৪ বাংলাদেশি সহ ৭৫ জন সাগরে ভাসছে

অন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত ১২ দিন ধরে তিউনিসিয়ার জলসীমায় অন্তত ৭৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধারকারী একটি নৌকায় ভাসছেন। আটকে পড়া এসব মানুষের মধ্যে ৬৪ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। বাকিরা মরক্কো, সুদান ও মিশরের নাগরিক।

তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ নৌকাটিকে তীরে ভিড়তে দিচ্ছে না বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, উপকূলীয় শহর জার্জিস থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নৌকাটি অবস্থান করছে।

মিসরের একটি নৌকা তিউনিসিয়ার সাগর থেকে ওই শরণার্থীদের উদ্ধার করে। তবে তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের শরণার্থী কেন্দ্রে জনাকীর্ণ অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আর কোন শরণার্থীদের জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। ফলে ওই নৌকাটি উপকূলীয় জারজিস শহর থেকে সাগরের ভেতরে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষের পাঠানো খাবার ও চিকিৎসাসেবা প্রত্যাখ্যান করেছে অভিবাসীরা।

তারা ইউরোপে ঢুকতে দিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দলটি ইউরোপের উদ্দেশে লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো বলে জানা গেছে।

রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মোংগি স্লিম বলেন, বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ওই নৌকার শরণার্থীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েছিলেন কিন্তু অনেকেই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, ১২ দিন ধরে এভাবে সাগরে ভেসে থাকার কারণে ওই শরণার্থীদের অবস্থা ভালো নয়।

মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে আফ্রিকান শরণার্থীদের ইউরোপে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রধান একটি পয়েন্ট হচ্ছে লিবিয়া উপকূল। এই উপকূল দিয়েই সবচেয়ে বেশি শরণার্থী ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে।

গত মাসে ইউরোপের উদ্দেশ্যে লিবিয়া ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকা উল্টে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে কমপক্ষে ৬৫ শরণার্থীর মৃত্যু হয়।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এই রুটেই প্রায় ১৬৪ শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। গত কয়েক বছরের প্রথম কয়েক মাসের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি তিনজনের একজন মারা যাচ্ছে।

Comments

comments