ইউজিসি তে সদস্য হিসেবে তিন অধ্যাপককে নিয়োগ ও আলোচনা

নিউজ ডেস্কঃ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য হিসেবে তিন অধ্যাপককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সদস্য পদগুলো শূন্য হওয়ায় তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার রাষ্ট্রপতির আশেদক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নিয়োগ পাওয়া নতুন তিন সদস্য হলেন- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ এবং বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম।

এই তিনজনের মধ্যে অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম দ্বিতীয়বারের মতো ইউজিসির সদস্য হলেন। সর্বশেষ গত ২৭ মে পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ এবং অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম ইউজিসিতে যোগদান করেছেন। আর বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের যোগদান করবেন।

এদিকে এই নিয়োগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। উচ্চশিক্ষার অ্যাপেক্সবডি হিসেবে সাধারণত ইউজিসিতে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, প্রকৌশল শিক্ষার শাখাগুলো বিবেচনায় নেয়া হয় সদস্য নিয়োগে।

কিন্তু এ তিনজনই প্রকৌশল শাখার গ্র্যাজুয়েট ও অধ্যাপক। বর্তমানে কর্মরত অপর দুই সদস্যের একজন বিজ্ঞান (কৃষি) এবং আরেকজন ব্যবসায় শিক্ষার। ফলে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখা উপেক্ষিত থেকে গেল। দেশে এখন প্রায় দেড়শ’ স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এগুলোর বেশিরভাগই কলা-সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে পাঠদান ও গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে থাকে। এ ছাড়া এই প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপককে নিয়োগ দেয়া হয়। বয়সেও তিনি নবীন।

ইউল্যাবে তিনি ২০০৯ সাল থেকে কর্মরত। ইউজিসির বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানও ইউল্যাবের অধ্যাপক ছিলেন। বিদায় নেয়ার পর তিনি ফের ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই যোগ দিয়েছেন।

নিয়োগপ্রাপ্তদের আরেকজন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পেলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উভয় ক্ষেত্রেই ১৯৭৩ সালের ইউজিসি আদেশ লঙ্ঘন হয়েছে। অধ্যাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপককে নিয়োগের কথা নেই। আর অধ্যাদেশের ৪(৩) নম্বর ধারায় শুধু চেয়ারম্যানকে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগের কথা বলা আছে।

সদস্যদের ব্যাপারে এ নিয়ে কোনো কথা নেই। দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগের সুযোগ থাকলে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সদস্যদের কথাও উল্লেখ থাকত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নীতিনির্ধারকের নিকটাত্মীয়। তবে কর্মক্ষেত্রে তিনি যোগ্যতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। ব্যাপক সুনামও আছে।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, নতুন সদস্যদের আমি স্বাগত জানাই। এর মধ্য দিয়ে কমিশন পূর্ণাঙ্গ হল। এখন আমাদের চলার পথ ত্বরান্বিত হবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, একজন সদস্য নতুন করে নিয়োগ পেয়েছেন। এতে অধ্যাদেশ ব্যত্যয় ঘটেনি।

জানা গেছে, অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম ও অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন বুধবার অপরাহ্নেই যোগ দিয়ে নির্ধারিত দফতরে যান। ইউজিসির কর্মকর্তারা তাদের শুভেচ্ছা জানান।

তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মেয়াদ চার বছর হলেও সরকার প্রয়োজন মনে করলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। তারা বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে যে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য হিসেবে একই বেতন-ভাতা পাবেন। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী তারা বাসস্থান, চিকিৎসা ও যানবাহন সুবিধাদি পাবেন। যোগদানের তারিখ থেকে তাদের এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

এদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত তিন সদস্যের বেতন-ভাতা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সদস্যদের একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে যেহেতু বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে যে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, ইউজিসির সদস্য হিসেবে একই বেতন-ভাতা দেয়ার কথা উল্লেখ আছে, তাই প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন অধ্যাপকের বেতন-ভাতা অনেক বেশি।

তাহলে তিন সদস্যের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নীতি গ্রহণ করা হবে কি না। এ ব্যাপারে ইউজিসির কেউ সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানাতে পারেননি। উল্লেখ্য, একজন চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি পূর্ণকালীন ৫ জন সদস্য রয়েছেন ইউজিসিতে।

এ ছাড়া কয়েকজন খণ্ডকালীন নিয়োগ করা হয়। তবে তারা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ডিনদের মধ্য থেকে ২ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়ে থাকেন। গত ২২ মে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ।

গত ২৭ মে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ আলী মোল্লা ও অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। আরেকটি সদস্যপদ গত প্রায় দু’বছর খালি পড়ে ছিল।

নোবিপ্রবিতে ভিসি নিয়োগ : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. দিদার-উল আলম। বুধবারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তার মেয়াদ হবে চার বছর। তিনি ভিসি অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

Comments

comments