শসা চাষে সাফল্য দেখে চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন শসা চাষে

নিউজ ডেস্ক:

বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কয়েকজন কৃষক। তাদের সেই স্বপ্নের পূরণ হলো শসা চাষে।

অধিক লাভ আর স্বল্প পরিশ্রম হওয়ায় শসা চাষের দিকে ঝুঁকছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার অনেক চাষি। অতি অল্প সময়ে শসা চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন উপজেলার মোকনা, পাকুটিয়া ও মামুদনগরের প্রান্তিক চাষিরা। উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড আলাভী/৩৫ ও কাশিন্দা জাতের শসা চাষ করে এ এলাকার চাষিরা এখন ভাল আয় করছেন।

তেমনই এক কৃষক বেটুয়াজানী গ্রামের চাষি রফিক মিয়া। তিনি ২ বিঘা জমিতে শসা চাষ শুরু করে এ পর্যন্ত ৩ শ’ মন শসা বিক্রি করেছেন। আরো ২ শ’ থেকে আড়াই শ’ মন শসা বিক্রি হবে বলে মনে করছেন তিনি।

রফিক মিয়ার মতো এমন আয়ের পথ খুঁজছিলেন যারা, সহজেই তারা যেন সে পথটি পেয়ে গেছেন। এখন এখানের অনেকেই শসা চাষ করে বেশ আয়-রোজগার করছেন।

শসা চাষে এ এলাকার চাষিদের সাফল্য দেখে উপজেলার অন্য অনেক এলাকাতেই এর হাওয়া লেগেছে। সেসব এলাকার চাষিরাও শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তাই বেটুয়াজানী, লাড়–গ্রাম, পারবাইজোড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে শষা চাষের।

নবগ্রামের কৃষক সুকুমার, পার্শ্ববর্তী নরদহি গ্রামের বাদল মিয়া জানান, তারা অন্যান্য কৃষকদের মতই একটু বাড়তি আয়ের পথ খুঁজছিলেন।

সুকুমার বলেন, ‘আমি এবার শসার সাথে সাথী ফসল হিসেবে করলা চাষ করে সফল হয়েছি।

বেটুয়াজানী গ্রামের চাষি রফিক মিয়া বলেন, ‘শসা চাষ করে যে সাফল্য অর্জন করেছি তা অবাক করার মতো। অনেকেই আমার ক্ষেতে আসছেন, আমি চাষের পদ্ধতিসহ এর পরিচর্যার খুঁটিনাটি বিষয় বুঝিয়ে দেই অকৃপণভাবে।’

নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিএম রাশেদুল আলম বলেন, ‘নাগরপুর উপজেলার কৃষকরা সবজি চাষে তেমন একটা আগ্রহী ছিলেন না। আমাদের ব্লক সুপার ভাইজারদের অনুপ্রেরণা, বিভিন্ন বীজ কোম্পানির পরামর্শ এবং সর্বোপরি আমাদের বিভিন্ন সময়ের প্রশিক্ষণ পেয়ে কৃষকরা এখন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলার ধলেশ্বরী নদী বিধৌত মোকনা ও পাটুটিয়ার কৃষকরা ক্ষতিকর তামাক চাষ বাদ দিয়ে করলা, টমেটো ও শসা সহ বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুঁকছে। আর এ অঞ্চলের কৃষকদের সাফল্য দেখে অন্য এলাকার কৃষকরাও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

Comments

comments