বহিরাগতদের বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় পা ভাঙ্গলো বাকৃবিতে এক শিক্ষার্থীর

মো. আরিফুল ইসলাম, বাকৃবি থেকে:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বেপরোয়া বাইক চালানোর ফলে প্রায় দিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের সামনের রাস্তায় বহিরাগত দুটি বাইক দ্রুত গতিতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগীতা করার সময় এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। আহত শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম সাজ্জাত প্রান্ত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বাই সাইকেল চালিয়ে জব্বারের মোড় খেকে সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে যাচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের সামনের দুইটা বাইক অনেক দ্রুত গতিতে আসছিল। অপরদিকে সামনে থাকা বাইকটি সাইকেলের সাজ্জাতকে অতিক্রম করতে পারলেও দ্বিতীয় বাইকটির অত্যধিক গতিতে থাকার কারনে সাইকেলটিকে অতিক্রম করতে পারেনি। বাইকটি সাজ্জাতের বাইসাইকেলকে মাঝ বরাবর আঘাত করলে বাইসাইকেলটি দুইভাগ হয়ে ভেংগে গিয়ে রাস্তার দুইপাশে গিয়ে পরে আর সাজ্জাত ছিটকে গিয়ে ১০ হাত সামনে গিয়ে পড়েন। এসময় তার মাথা, মুখ ও কান দিয়ে রক্ত পরছিল। আহত সাজ্জাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুর্ঘটনায় সাজ্জাতের পায়ের এক্সরেতে ফিমার ভেঙে গেছে। মাথায়ও আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিকে বাইক আরোহী দুইজনও গুরুতর আহত হয়েছেন। মোটর সাইকেলটি বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্যই ক্যাম্পাসে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশকিছু বহিরাগতরা বেপরোয়া গতিতে বাইক চালান। ফলে মাঝে মধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বহিরাগতরা বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোর পাশাপাশি ছাত্রীদের উত্ত্যক্তও করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকেল থেকে তীব্র সমালোচনা চলছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর বলেন, আমি হাসপালালে গিয়েছিলাম। আহতের চিকিৎসার সবধরণের ব্যবস্থা করা হবে। বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments