ছয় মাস ধরে বন্ধ ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের ক্লাস পরিক্ষা! আলটিমেটাম দিল শিক্ষার্থীরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
বিগত ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকা ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের সকল সেমিষ্টারের ক্লাস পরিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রুপে চালুর দাবীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর আজ সকালে সাত(৭)দিনের লিখিত আলটিমেটামসহ বিভিন্ন দাবী-দাওয়া পেশ করেছে কলেজটির শিক্ষার্থীরা।

গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে বন্ধ রয়েছে ঝিনাইদহে অবস্থিত সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের সকল সেমিষ্টারের ক্লাস পরিক্ষা এতে চরম সেশন জটের কবলে পড়েছে কলেজটির ছয়টি ব্যাচের ৩৬০ জন শিক্ষার্থী।

এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা এছাড়াও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ক্লাস পরিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রুপে চালুর দাবীতে মৌখিকভাবে বার বার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল না পেয়ে আজ সকালে আবারও লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর বিভিন্ন দাবী প্রদান করেছি। তারা আরও বলেন আগামী সাত(৭) দিনের মধ্যে কাজ না হলে আমরা আমরণ অনশণসহ অন্যান্য কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।

এ ব্যাপারে কলেজের ৪র্থ-বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা্ এ কলেজে ভতি হয়ে ভূল করেছি, অনেক পাপ করেছি, না হলে আমাদের সাথে একই সেশনে ভতি হওয়া অন্যান্য ক্যাম্পাসের এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা পাশ করে বের হয়ে গেছে, আর আমরা এখনও ৪র্থ-বর্ষ শেষ করতে পারলাম না, আমাদের বাবা–মা অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠাচ্ছে আর আমরা তা এখানে বসে বসে নষ্ট করছি এ ব্যাপারে কতৃপক্ষসহ কারও কোন মাথা ব্যথা নাই।

এ ব্যাপারে কলেজের ৩য় বর্ষের অন্য এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের সকল ক্লাস জানুয়ারী মাসে শেষ হলেও কলেজ প্রশাসন এখনও কোন পরিক্ষার তারিখ দিতে পারে নাই তাই আমরা সবাই বাড়ী চলে এসেছি এবং শ্রীঘ্রই ক্লাস পরিক্ষা চালুর কোন সম্ভাবনা দেখছি না।

কলেজের ১ম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না পরে শাস্তি পেতে হবে তাই আমরা পূণরায় রিএডমিশন দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

এখানে উল্লেখ্য যে, কলেজটিতে ছয়টি ব্যাচে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে তাদের আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা,ইন্টানীভাতাসহ বহুবিদ সমস্যায় জজরিত এমনকি কলেজটিতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সকল পদ খালী থাকলেও আজ অবদি স্হায়ী অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষসহ পযাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ্ হয়নি যার কারণে কলেজটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে।

এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানা যায়, কলেজটির একাডেমিক কাযক্রম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে চলে কিন্তু উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বতমান কলেজ প্রশাসনের ছন্দপতন ও অনাকাক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে শিক্ষা কাযক্রমের অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যার দায়ভার পড়েছে কমলমতি নিরিহ শিক্ষার্থীদের উপর ।

এ ব্যাপারের জন্য কলেজটির অধ্যক্ষের টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তা কেউ রিসিভ করেনি।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায় এসব সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হিসাবে অন্তর্ভুক্তির দাবি করে আসছে এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসকসহ সরকারের উচ্চ সকল পর্যায়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি থাকলে তাদের সকল সমস্যা সমাধান হবে বলে তারা মনে করেন কিন্তু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি পত্র প্রদান না করায় বিষয়টি ঝুলে আছে ।

 

ডিপ্লোমাধারী ও প্রশিক্ষনার্থীদের বিভিসি কতৃক অযৌক্তিক রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিতে ভেটেরিনারি কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমাধারী ও প্রশিক্ষনার্থীদের বিভিসি কতৃক অযৌক্তিক রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ।

কলেজের বিভিন্ন বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান ভেটেরিনারি শিক্ষা আইন ২০১৯ এর ধারা ২(১৬), ৭(চ), ১৯, ২৫, ৪৯ দ্রষ্টব্য এর সংশোধনের জোর দাবি জানাই। উক্ত দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনে নামবে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ।

এই পেশা ও পেশার উন্নতির সার্থে উক্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন । এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বিশাল প্রাণী সম্পদ অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা হুমকির সম্মুখীন হবে। তাই সকল ভেটেরিনারিয়ানদের বিনীত অনুরোধ করব সবাই যেন আমাদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে আন্দোলনে নেমে উক্ত সমস্যার সমাধান করেন।

Comments

comments