বাকৃবিতে বিদেশী শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যায় ভুক্তভোগী

বাকৃবি প্রতিনিধি:

দক্ষিন এশিয়ার মধ্য সর্ববৃহৎ কৃষি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য বাকৃবির তুলনা হয় না। মোট ৬ টি অনুষদের ৪৩ টি বিভাগে প্রতিবছর প্রায় ১২৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় এই চির সবুজের ক্যাম্পাসে। দেশের বাইরে থেকেও শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের জন্য ছুটে আসে বাকৃবিতে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের মোট তেইশ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এর মধ্যে নেপালের ১২ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে মোট ১৩ জন, মালয়েশিয়ার ২ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে মোট ৮ জন এবং সোমালিয়ার ২ জন ছেলে। ৫ জন ছাত্র কৃষি অনুষদে এবং বাকি ১৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ভেটেরিনারি অনুষদে এবং ২ জন সোমালিয়ান ছাত্র মাস্টার্স এর জন্য ভর্তি হয়। বাকৃবিতে বর্তমানে প্রায় ৭১০৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫৩ জন।

বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও জানা যায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আবাসন সংকটের কারনে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। কিছু কিছু ছাত্র বাকৃবির শাহজালাল হলে অবস্থান করছে, কিছু গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কমন রুমে এবং ৭ জন ছাত্রী বেগম রোকেয়া হলে রয়েছে। এছাড়াও বাকৃবির ইশা খাঁ হলের এক্সটেনশন ভবনে থাকছে কিছু শিক্ষার্থী। আন্তজার্তীক মান সম্পন্ন কোনো আবাসন ব্যাবস্থা না থাকায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারে জানা যায়, হলের পরিবেশ থাকার জন্য অনুপোযোগী। বিশেষ করে টয়লেটের অবস্থা খুব খারাপ যা ব্যবহারের জন্য মানানসই নয়। হলের ডাইনিং ঠিকমত না চলায় খাবারের সমস্যায় পড়তে হয়। যারা হলের বাইরে থাকে তারা নিরাপত্তা হীনতায় দিন পার করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা। হলের ওয়াইফাই সংযোগের অবস্থা শেচনীয়। আর ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি তো লেগেই আছে তবুও প্রশাসন নির্বিকার। বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাকৃবিতে এসে নিরাপত্তা হীনতায় ভোগার বিষয়টি খুবই হতাশাকর।

নেপালের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তী হয়েছিলাম অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবস্থা আমাকে হতাশ করেছে। বিভিন্ন সমস্যায় পরে আমি শিক্ষকদের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে গিয়েছি তারা আমকে আশ্বাস দিয়েছে সমস্যা সমাধান করবে কিন্তু কোনো সমাধান দিতে পারেনি তারা। সব কিছু আগের মতই রয়ে গিয়েছে। আমাদের জন্য বিদেশী স্টুডেন্ট অ্যসোসিয়েশন নেই যার কারনে আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে পারিনা । অন্যান্য দেশ থেকে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। আমাদের কিছু শিক্ষার্থী হলে থাকছে কিন্তু বেশ কয়েকজন ক্যাম্পসের বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকে। বাসা ভাড়া বাবদ তাদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। হলে কোনো ফ্রিজ নেই বা আনার ব্যাবস্থা নেই যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাবে। বিভিন্ন সময় হল থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়ে যায় কিন্তু প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। সম্প্রতি আমার এক বন্ধুর সাইকেল চুড়ি হয়েছে কিন্তু বাকৃবি প্রশাসন এখনও কিছু করতে পারেনি।শুধু আমদের জন্য নয় যারা এদেশের শিক্ষার্থী তদের জন্যও হলের অবস্থা থাকার জন্য অনুপেযোগী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খুবই শোচনীয়।

বাংলাদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বাকৃবি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া এমন অভিযোগ সত্যিই হতাশা জনক। বাকৃবি প্রশাসনের এমন নির্বিকার অবস্থার কথা শুধু বিদেশী শিক্ষার্থীরাই নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীরাও এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই প্রশাসনের বিষয়গুলোর প্রতি আরও সচেতন হওয়া জরুরী বলে আমি মনে করি।

Comments

comments