বিপিএলে বারবার নিয়ম বদলে হতাশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো

স্পোর্টস ডেস্ক:

সাকিব আল হাসানের ফ্র্যাঞ্চাইজি বদলের কারণেই কি প্লেয়ার ড্রাফটের পুরনো নিয়মে ফিরে গেল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল? এই প্রশ্ন বেশিরভাগ বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের গতকালের সংবাদ সম্মেলনেও এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন হলো। বিসিবির কর্মকর্তারাও তাদের মতো করে সাকিব ইস্যুতে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরও প্রশ্ন থেকে গেছে। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মনে করছে ঢাকা ডায়নামাইটস ছেড়ে সাকিবের রংপুর রাইডার্সে যোগ দেওয়াতেই এই নিয়মের পরিবর্তন। যদিও সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য মাহাবুবুল আনাম জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যেহেতু চুক্তি নবায়ন করেনি সেহেতু আগে থেকে খেলোয়াড় নেওয়া বৈধ নয়।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভা শেষে জরুরি বৈঠকে বসেন রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তারা। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও ইসতিয়াক সাদিক জানান, ‘চুক্তি সাইন করা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল তো মৌখিক এবং লিখিতভাবে আগেই জানিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে। বিপিএল সপ্তম এডিশনের তারিখ ঘোষণা করেছে তারা। আমাদের ব্যাংক জামানত নবায়ন করতে বলা হয়েছে। আমরা জানি ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকছি, তাহলে খেলোয়াড় নেওয়াতে দোষ কোথায়?’

নিয়ম পরিবর্তন করাই বিপিএলের নিয়ম হয়ে গেছে। গত তিন এডিশনেই ক্রিকেটার দলে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে গভর্নিং কাউন্সিল। এ ব্যাপারে ইসতিয়াক সাদিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিশেষ একটি দলের জন্য গত তিন বছরে তিনবার নতুন নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এবার নতুন নিয়ম দেখবেন। বিশ্বের সব ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট কী সুন্দর নিয়মে চলে। অথচ বিপিএলে ইচ্ছেমতো নিয়ম করে।’

২০১৬ সালে নিয়ম করা হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজেদের পছন্দে আইকন ক্রিকেটারদের দলে নেবে। পরের এডিশন ২০১৭ সালে নতুন সংযোজন করা হয় খেলোয়াড় ‘রিটেইন’ করার নিয়ম। এই নিয়মে প্রতিটি দল আইকনসহ তিনজন ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারত। ২০১৯ সালের বিপিএল খেলোয়াড় রিটেইন করা গেছে চারজন। তবে এই দুই এডিশনেই আইকন ক্রিকেটারদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে যেতে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।

রংপুর রাইডার্সের সিইও জানান, বিসিবি থেকে বলা হয়েছিল এবারও পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে, ‘বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বলেছিল, আগামী তিন বছর খেলোয়াড় দলে নেওয়ার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসবে না। সেই হিসেবে আমরা সব দলই খেলোয়াড় নিচ্ছিলাম। যেই আমরা সাকিবকে নিলাম তখনই ঝামেলা বেঁধে গেল। এখন তারা বলছে বিপিএলের সব ফ্র্যাঞ্চাইজি বাতিল। তাই যদি হবে তাহলে টুর্নামেন্টের তারিখ ঘোষণা করে কীভাবে? আমাদের মৌখিক এবং মেইলে জানানো হয়েছে প্রস্তুতি নিতে। এখন যদি বলে নিয়মবহির্ভূত করা হয়েছে, তাহলে কিছু করার নেই।’

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলনের পর খুলনা টাইটান্সের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘গত তিন বছর যেভাবে হয়েছে আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আলাপে আমরা নিশ্চিত ছিলাম আমরা থাকছি। যে কারণে খেলোয়াড় রিটেন করা, যারা খেলবে তাদের ফিটনেস দেখা। গত তিন বছর দেখেছি, আইকনরা তাদের পছন্দমতো দল পরিবর্তন করে। শুধু সাকিব ও রিয়াদ ছাড়া। সে আলোকে এবারও খেলোয়াড় নিচ্ছিলাম।’

তবে বিসিবির প্রতি ইনামের অনুরোধ, বছর বছর যেন নিয়ম পরিবর্তন করা না হয়, ‘নতুন করে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি হবে, এটা ঠিক আছে। সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ডাকবে তারা। কথা হলো নতুন চুক্তি হলে সেটা যেন চার বছর বহাল থাকে। গত তিন বছরই খেলোয়াড় ড্রাফট ও রিটেইনশনের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা চাই অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে যেভাবে হয় সেটাই করা হোক বিপিএলে। সেই আলোকে আমরা পরিকল্পনা করতে পারব। একটা স্থায়ী নিয়ম করলে আশা করি বিপিএল আরও সুন্দর হবে।’

Comments

comments