বাকৃবিতে আবাসন ও পানি সঙ্কট নিরসনের দাবিতে আন্দোলন

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বেগম রোকেয়া হলের অধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা আবাসন ও পানি সঙ্কট নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১টায় বেগম রোকেয়া হলের সামনে রাস্তা অবরোধ করে তারা আন্দোলন করে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, ভর্তির সময় হলে সিট সঙ্কট থাকায় বেগম রোকেয়া হলের অধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে ৫৭ জন ছাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় তাদের তিন মাসের মধ্যে হলের মূল ভবনে ওঠার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও হলের মূল ভবনে যেতে পারেনি ছাত্রীরা। স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে পানি সঙ্ককটসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন আন্দোলনকারী ছাত্রীরা।

এ দিকে ২০১৬ সালের শেষের দিকে হলের কাজ অপূর্ণ রেখেই বেগম রোকেয়া হলে ছাত্রী ওঠানো শুরু হয়। বর্তমানে ওই হলে ১ হাজার সিটের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন ছাত্রী অবস্থান করছেন।

এ সময় আন্দোলনকারী ছাত্রীরা অভিযোগ কনে বলে, স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এখানে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র পানির সঙ্কট। বাথরুমে পানি না থাকার কারণে তিন তলা থেকে নিচে নেমে এসে পানি নিয়ে যেতে হয়। এছাড়া এখানে প্রতিনিয়ত রোগীদের ভীড় থাকার কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখানে কোনো ডাইনিং ও ক্যান্টিন না থাকার কারণে খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা হচ্ছে। হলে সিট সঙ্কট থাকায় গণরুমেও জায়গা হয়নি আমাদের। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার প্রভোস্ট স্যারকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েই চলেছেন। আমাদের এখন একটাই দাবি সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলে ওঠতে চাই।

আন্দোলনের একপর্যায়ে পানি সঙ্কট ও আবাসন সঙ্কট নিরসনে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. শহীদুল আলম ও বেগম রোকেয়া হলের হাউজ টিউটর ড. এফ. এম. জামিল উদ্দিন উপস্থিত হয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সমস্যাগুলো দেখতে ছাত্রীদের নিয়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে যান।

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে পানির পাইপে সমস্যা থাকার কারণে পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধানের কাজ চলছে। আর আবাসন সঙ্কট নিরসনে হলের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার কাজ চলছে। নভেম্বরের মধ্যেই ওই হলের সকল ছাত্রী সিট পাবে আশা করছি।

Comments

comments