ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে যবিপ্রবির অনুষদ করণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
বিগত সাত মাস ধরে বন্ধ থাকা ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে অনতিবিলম্বে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হিসাবে অন্তর্ভুক্তি করণের দাবিতে শনিবার বিকেলে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছে কলেজটির শিক্ষার্থীরা।

গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে বন্ধ রয়েছে ঝিনাইদহে অবস্থিত সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের সকল সেমিষ্টারের ক্লাস পরিক্ষা এতে চরম সেশন জটের কবলে পড়েছে কলেজটির ছয়টি ব্যাচের ৩৬০ জন শিক্ষার্থী। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা এছাড়াও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন।

জানা গেছে, শনিবার(২৪ শে আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কলেজের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার নিরসন করে দ্রুত সকল সেমিষ্টারের ক্লাস পরিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রুপে চালুর দাবিতে ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন করেছে উক্ত কলেজের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ছাত্রনেতা ও কলেজের ভিপি লুবান মাহফুজ মিশুক, সোহাগ তালুকদার, সজিব,সাদিয়া,  নূসরাত, সোনিয়া, নাজমুল ও মিতালীসহ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে তারা কলেজের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনসহ সকলস্থানে কিছুটা অবস্থান কমসূচীও পালন করেন।

এ ব্যাপারে ভেটেরিনারি কলেজের ছাত্রনেতা ও কলেজের ভিপি লুবান মাহফুজ মিশুক বলেন, ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে অনতিবিলম্বে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ হিসেবে ঘোষণা করে কলেজের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার নিরসনসহ দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে যদি তাদের দাবি মানা না হয় তবে কলেজটিকে সম্পূন অচল করে আমরা আমরণ অনশণসহ অন্যান্য কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ক্লাস পরিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রুপে চালুর দাবীতে মৌখিকভাবে বার বার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল না পেয়ে আজ শনিবার ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন করেছি।

এ ব্যাপারে কলেজের ৪র্থ-বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা্ এ কলেজে ভতি হয়ে ভূল করেছি, অনেক পাপ করেছি, না হলে আমাদের সাথে একই সেশনে ভতি হওয়া অন্যান্য ক্যাম্পাসের এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা পাশ করে বের হয়ে গেছে, আর আমরা এখনও ৪র্থ-বর্ষ শেষ করতে পারলাম না, আমাদের বাবা–মা অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠাচ্ছে আর আমরা তা এখানে বসে বসে নষ্ট করছি এ ব্যাপারে কতৃপক্ষসহ কারও কোন মাথা ব্যথা নাই।

কলেজের ১ম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না পরে শাস্তি পেতে হবে তাই আমরা পূণরায় রিএডমিশন দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান যে, গত একাদশ নিবাচনের আগে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দসহ সরকারের উচ্চ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদেরকে আশ্বাস দিয়েও কোনো কথা রাখেনি এবং বিষয়টি নিয়ে তারা বারবার প্রতারণার শিকার হচেছ ফলে একই আন্দোলনের পৃনরাবৃত্তি ঘটছে এতে তাদের শিক্ষা জীবন দিনে দিনে মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ছে।

এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানা যায়, কলেজটির একাডেমিক কাযক্রম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে চলে কিন্তু উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বতমান কলেজ প্রশাসনের ছন্দপতন ও অনাকাক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে শিক্ষা কাযক্রমের অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যার দায়ভার পড়েছে কমলমতি নিরিহ শিক্ষার্থীদের উপর।

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হিসাবে অন্তর্ভুক্তির দাবি করে আসছে এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসকসহ সরকারের উচ্চ সকল পর্যায়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি থাকলে সকল সমস্যা সমাধান হবে বলে তারা মনে করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, কলেজটিতে ছয়টি ব্যাচে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে তাদের আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা,ইন্টানীভাতাসহ বহুবিদ সমস্যায় জজরিত এমনকি কলেজটিতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সকল পদ খালী থাকলেও আজ অবদি স্হায়ী অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষসহ পযাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ্ হয়নি যার কারণে কলেজটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে। এমতবস্হায় এলাকার বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের মধ্যে কলেজটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত না হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভেটেরিনারি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ অমলেন্দু ঘোষ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও শিক্ষা কাযক্রমের অচল অবস্থার ঘটনাটি স্বীকার করে জানান, ছাত্রদের দাবিটি বহুদিনের এবং ঘটনাটির আসু ও স্হায়ী সমাধান হোক এজন্য বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারি অর্থায়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পাকারে বাস্তবায়নাধীন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র ভেটেরিনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই অঞ্চলের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা ও চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ও জাতীয় স্বার্থের প্রেক্ষিতে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ০৮ অক্টোবর ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে কলেজটির শুভ উদ্বোধন করেন।

ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর/২০১৮ সমাপ্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এই কলেজটিও বিগত চারটি ভেটেরিনারি কলেজের অনুরূপ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কলেজটির সংকটাপন্ন অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঝিনাইদহ জেলার মাননীয় সংসদ-সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ (ফ্যাকাল্টি) হিসাবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ গৃহীত হয় কিন্তু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনাপত্তি পত্র প্রদান না করায় বিষয়টি ঝুলে আছে যার ফলে শিক্ষা কাযক্রমের অচল অবস্থার সৃষ্টিসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন দিনে দিনে মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ছে।  ।

Comments

comments