বির্বতনের থিওরী ভুল দাবী হবিপ্রবি’র বিজ্ঞানী ড. আব্দুল আহাদ এর

নিউজ ডেস্কঃ

ডারউইনের থিওরীসহ বির্বতনের মোট ১১ টি থিওরী এবং ডারউইনের থিওরী ভুল দাবী করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর-এর প্রফেসর ড. আব্দুল আহাদ। প্রফেসর আহাদ বলেন বিবর্তনের থিওরী ভুল প্রমান করে এ পর্যন্ত (২০১১ হতে ২০১৯ ) তিনি ১৪ টি  প্রবন্ধ স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছেন। ডারউইনের থিওরীসহ সবগুলো (এই ১১ টি থিওরী) দাবী করে যে, মানুষসহ সব প্রাণী উৎপত্তি ঘটেছে এভাবে : এককোষি জীব →অমেরুদন্ডী প্রাণী → ফুলকাযুক্ত মাছ → উভচর প্রাণী (যেমন-ব্যাঙ) → সরিসৃপ জাতীয় প্রাণী (যেমন- সাপ, ডায়ানোসর) → অমরাযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী → উচ্চতর স্তন্যপায়ী প্রাণী (যেমন-সিমপাঞ্জী) → মানুষ।

বির্বতনের ১১ টি থিওরী মধ্যে ডারউইনের থিওরী প্রধান । ডারউইনের পুস্তক “Origin of Species” (এ পুস্তকে ডারউইন জীব কিভাবে পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য অন্য জীবে রূপান্তরিত হয়/ উৎপত্তি লাভ করেছেন তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন) এবং “Descent of Man” (এ পুস্তকে ডারউইন পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মানুষ কিভাবে অন্য জীব হতে উৎপত্তি লাভ করেছে তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন) হতে ড. আহাদ প্রমান করেছেন যে, সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী, এমনকি মানুষের উৎপত্তি/বির্বতন (Evolution) ও এসবের ভৌগলিক বিস্তারের (Biogeography/ Geographical distribution) জন্য আবহাওয়া/জলবায়ু-ই (Climate/ environment) দায়ী। ভোগলিক বিস্তারের মাধ্যমে জীব নতুন আবহাওয়া প্রবেশ করে এবং ঐ পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য নিম্ন শ্রেণীর জীব (এককোষি জীব) হতে সব প্রাণী ও মানুষের (Darwin and his followers’ belief is that plants and animals are dispersed away from their places of origins and then became subsequently modified to match with the environment. Therefore, climate plays the key role both for the evolution of organisms (even human)|

তাই আবহাওয়ার পরিবর্তন, জীবের বিবর্তন ও জীবের ভৌগলিক বিস্তার অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাই যদি প্রমান করা যায় পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর কারনে এক জীব অন্য নুতন জীবে রূপান্তরিত/ পরিণত হয় না তবে ডারউইনের থিওরী ও তাঁর বায়োজিওগ্রাফি উভয়ই ভূল প্রমানিত হবে। ড. আব্দুল আহাদ তার ১৯ পৃষ্ঠার প্রবন্ধে আমেরিকান বিজ্ঞানীর ও বইয়ের সর্বাধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দ্বারা (ছবিসহ) প্রমাণ করেছেন যে, পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর কারনে এক জীব অন্য নুতন জীবে রূপান্তরিত/ পরিণত হয়নি অর্থাৎ ডারউইনের থিওরী ও তাঁর বায়োজিওগ্রাফি ভুল । তার কয়েটি যুক্তি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তি-১: আবহাওয়ার পরিবর্তনের (Changing climate) সাথে তাল মিলিয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য এক জীব অন্য একটি নুতন জীবে রূপান্তরিত হয় না; বরং জীব যখন আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে বাঁচতে পারে না, তখন তারা স্থান ত্যাগ করে অথবা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বেঁচে থাকে। যেমন- প্রচন্ড শীতে প্রাণ হারানোর ভয়ে সুদূর সাইব্রেরিয়া হতে বিভিন্ন ধরনের হাজার-হাজার পাখি বাংলাদেশে আগমন করে। যখন সাইব্রেরিয়া প্রচন্ড শীত কমে যায় তখন তারা বাংলাদেশ হতে পুনরায় সাইব্রেরিয়া ফিরে যায়। এছাড়াও প্রায় ৫০ হাজার পাখি শীতের ভয়ে শরৎকালে ইউরোপ হতে আফ্রিকা পাড়ি জমায়। ইউরোপের শীতের পরিমাণ কমে গেলে পুনরায় তারা ইউরোপে ফিরে আসে। প্রচন্ড শীতে প্রাণ হারানোর ভয়ে কেঁচো শীতকালে মাটির গভীরে চলে যায় এবং শীত চলে গেলে পুনরায় মাটির উপর দিকে আসে। এভাবে বিভিন্ন প্রাণী আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে টিকে থাকে। কিন্তু অন্য প্রাণীতে রূপান্তরিত হয় না।

যুক্তি-২: যদি পরিবর্তিত আবহাওয়ার সাথে জীব আবহাওয়ার খাপ খাইতে অক্ষম হয়, তবে জীব পৃথিবী হতে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে (চিরতরে হারিয়ে) যায় কিন্তু অন্য প্রাণীতে রূপান্তরিত হয় না। এর প্রমান IUCN (International Union for Conservation of Nature) এক জরিপে পূর্বভাস দেয়িয়েছেন যে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি (Global Warming) কারণে ৩৫% পাখি, ৫২% উভচর প্রাণী এবং ৭১% কোরাল বিলুপ্ত হতে পারে। আবার দক্ষিণ মেরু ও উত্তর মেরুর বরফ গলে অনেক দেশ তলিয়ে যেতে পারে, মানুষ সহ অন্যান্য জীব সমূহ ধ্বংস হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা এমনও ভবিষ্যত বাণী করেছেন। আর এ কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বন্ধের জন্য বৃক্ষ রোপন, সিএফসি গ্যাস ব্যবহার বন্ধ, ধরিত্র সম্মেলন (Earth Summit), প্রভৃতি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে । ডারউইনের থিওরী সত্য হলে (পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য এক জীব অন্য একটি নুতন জীবে রূপান্তরিত হলে) তাপমাত্রা বৃদ্ধি বন্ধের প্রয়োজন হতো না।

যুক্তি-৩: বিজ্ঞানী সীকৃত পৃথিবীতে ৬টি আবহাওয়া অঞ্চল আছে (Climatic Zone/ Region), যথা: ১) পোলার (Polar): এ অঞ্চলে অত্যাধিক ঠান্ডা ও সমস্ত বছর শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। ২) শীত প্রধান (Temperate) : এ অঞ্চলে কালে অতাধিক ঠান্ডা ও গ্রীষ্ম কালে মৃদু ঠান্ডা। ররর) শুষ্ক জোন (Arid): : এ অঞ্চলে সমস্ত বছর গরম বিরাজ করে। রা) ট্রাফিকাল (Tropical): : এ অঞ্চলে সমস্ত বছর গরম ও র্আদ্র আবহাওয়া বিরাজ করে। ৩) মেডিটেরিয়ান (Mediterranean): : এ অঞ্চলে মৃদু ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। ৪) মাউন্টেন তুন্দ্রা (Mountains or Tundra): এ অঞ্চলে পুরা বছর ঠান্ডা থাকে। সুতরাং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য এক জীব অন্য জীবে রূপান্তরিত হলে, ঐ ৬টি অঞ্চলের আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে পৃথিবীতে মাত্র ছয় (৬) প্রকার প্রাণী ও ছয় (৬) প্রকার উদ্ভিদ প্রজাতি পাওয়া যেত। অথচ পৃথিবীতে মোট ৮.৭ মিলিয়ন জীব প্রজাতি অছে, যার মধ্যে ১.২ মিলিয়ন প্রজাতি প্রাণী।

যুক্তি-৪: অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ পৃথিবীর সব আবহাওয়ায় অঞ্চলে পাওয়া যায়, যাকে “কসমোপলিটোন জীব” বলে (Cosmopolitan organism) যেমন- চড়ুই পাখি, হিরন পাখি, ফল পচানো মাছি (fruit fly), ডেইসি উদ্ভিদ (Daisy) সিফাড’স পারস (shepherd’s-purse) প্রভৃতি। যদি পরিবর্তত আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর কারনে এক জীব অন্য জীবের পরিণত হতো, তবে এসব “কসমোপলিটোন জীব” ঐ অঞ্চলের জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর অন্য জীবে পরিণত হতো, এবং তখন আর কোন “কসমোপলিটোন জীব” পাওয়া যেতো না।

যুক্তি-৫: যদি পরিবর্তিত আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর কারনে এক জীব অন্য জীবের পরিণত হতো, তবে সাদৃশ্যপূর্ণ আবহাওয়ার একই ধরনের প্রাণী পাওয়া যেত। কিন্তু দুঃখের বিষয় সাদৃশ্যপূর্ণ একই ধরনের আবহাওয়ার একই ধরনের প্রাণী পাওয়া যায় না। যেমন- ইন্ডিয়া, আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আবহাওয়া একই ধরনের, কিন্তু হাতি কেবল ইন্ডিয়া ও আফ্রিকাতে পাওয়া যায়, তবে ব্রাজিলের পাওয়া যায় না। আবার দক্ষিণ মেরু ও উত্তর মেরু আবহাওয়া একই ধরনের (অর্থ্যাৎ উভয় মেরু কেবল বরফ) কিন্তু পেগুইন শুধু দক্ষিণ মেরুতে পাওয়া যায় এবং শ্বেত ভাল্লুক উত্তর মেরুতে পাওয়া যায়, দক্ষিণ মেরুতে নয়। সুতরাং দেখা যাচেছ যে, সাদৃশ্যপূর্ণ আবহাওয়ার একই ধরনের প্রাণী পাওয়া যায় না, যা ডারউইনের থিওরী ভুল প্রমান করে।

যুক্তি-৬: ডারউইনের থিওরীর ভিত্তি সর্ম্পূন্ন তাঁর বিশ্বাস। কারন ড. আহাদ প্রমাণ করেছেন যে, Origin of Species পুস্তকে ডারউইন ৩৭২ বার “আমি বিশ্বাস করি” ও এরুপ সমর্থক ভাষা ব্যবহার করে কিভাবে এককোষি জীব হতে সব জীবের উৎপত্তি হয়েছে তা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। আর Descent of Man- পুস্তকে ২৬৪ বার আমি বিশ্বাস করি ও এরুপ সমর্থক ভাষা ব্যবহার করে কিভাবে একটি নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী হতে মানুষের উৎপত্তি লাভ করেছেন তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। তাই ডারউইনের থিওরীর ভিত্তি সর্ম্পূন্ন তার বিশ্বাস।

যুক্তি-৬: ডারউইন ও বিবর্তন বিজ্ঞানীর মতে বিবর্তন অবিরত চলছে এবং ভবিষ্যতে চলবে এবং বর্তমানে আরও দ্রুত গতিতে চলছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ডারউইন ও তার সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা এমনকি আধুনিক বিজ্ঞানীরা পরিবর্তিত আবহাওয়ার সাথে খাপখাওয়াতে একটি নতুন জীবের উৎপত্তির উদাহরণ বা প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে আধুনিক বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইংল্যান্ডের শিল্প এলাকায় industrial melanism কারনে একটি সাথা মথ প্রজাতি (Biston betularia) হতে একটি কালো মথ প্রজাতি ((B. carbonaria)-এর উৎপত্তি লাভ করেছে। বিবর্তনের এটা একটি নাটকীয় ও চমৎকার উদাহরণ।

কিন্তু বাস্তবে তা সত্য নয়, এর পক্ষে ড. আহাদ বলেন

১) ইংল্যান্ডে শিল্পবিল্পবের আগে সেখানকার বৃক্ষগুলোর বাকলগুলো সাদা থাকতো। ফলে কালো মথগুলো বৃক্ষের বাকলগুলোতে সহজে শিকারী পাখির চোখে সহজে ধরা পড়তো এবং পেটুকের মতো কালো মথ খেয়ে ফেলতো। ফলে কালো মথের সংখ্যা কমে যায়, ফলে সাদা মথের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে শিল্পবিল্পবের পরে শিল্পের কালোধোঁয়ায় বৃক্ষের বাকলগুলো কালো হওয়ায় কারণে সাদা মথ সহজে শিখারী পাখির চোখে পড়ে। ফলে শিকারী পাখি সাদা মথগুলো খেয়ে ফেলে, আর কালো মথ পাখির চোখের নজরে না পড়ায় তারা বেঁচে যায়। শিল্পবিপ্লবের কারণে কালো মথের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, সাদা মথের সংখ্যা কমে যায় অর্থাৎ সাথা মথ ও কালো মথের হ্রাস-বৃিদ্দ মাত্র। ২) ১৯৫৬ সালে কালোধোঁয়া (soot) পরিস্কার করার আইন চালু হওয়ার ফলে সাদা মথের সংখ্যা ১৯৬০ সালে ৯০% হতে কমে ১৯৯৫ সালে ১৯%-এ নেমে এসেছে। আবার ইংল্যান্ডে অদূষনীয় এলাকায় ও পশ্চিম-উত্তারাঞ্চে সাদা মথেরই সংখ্যা বেশি। বিবর্তনের আধুনিক সংজ্ঞা হলো একটি জীব এককভাবে অন্য জীবে রূপান্তরিত হয় না, বরং ঐ প্রজাতির সমস্ত জীব অন্য জীবে পরিণত হয় (Entire population of a particular species evolves)। বিবর্তনের সংজ্ঞা অনুসারে সব সাদা মথ কালো মথে পরিণত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয় নাই। ররর) প্রজাতির সংজ্ঞা অনুসারে একটি প্রজাতির সাথে অন্য একটি প্রজাতি সাথে কোনভাবেই যৌন মিলন সম্বব না; যদি বাধ্য করা হয়, তবে কোনভাবেই বাচচা জন্ম দেবে না; যদি বাচচা জন্ম দেয়, তবে কোনভাবেই প্রজননক্ষম হবে না, অবশ্যই বন্ধ্যা হবে। কিন্তু সাদা মথ কালো মথের সাথে যৌন মিলনের ফলে প্রজননক্ষম বাচচা (fertile offspring) জন্ম দেয়। সুতরাং সাদা মথ ও কালো মথ ২টি আলাদা প্রজাতি । শিল্পবিল্পবের ফলে শিল্পের কালোধোঁয়া এবং শিকারী পাখি সাদা মথগুলো খেয়ে ফেলার দরুন সাথা মথ ও কালো মথের হ্রাস-বৃদ্ধি মাত্র।

যুক্তি-৯: জীব ভোগলিক বিস্তারের মাধ্যমে নতুন আবহাওয়া প্রবেশ করে এবং ঐ পরিবর্তিত/নুতন আবহাওয়া বা জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রাণী ও মানুষের উৎপত্তি ঘটেছে। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তন, জীবের বিবর্তন ও জীবের ভৌগলিক বিস্তার অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যেহেতু এতক্ষণ প্রমাণ করা হলো যে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য এক জীব অন্য জীবে রূপান্তরিত হয় না। সেহেতু জীব সমূহের ভৌগলিক বিস্তারে “বায়োজিগ্রাফি” সাবজেক্টটি সঠিক না অর্থাৎ ভুল। তাই সৃষ্টিকর্তা সব জীব ও মানুষ সৃষ্টি করেছেন।

Comments

comments