অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখান বাকৃবি শিক্ষক সমিতির, প্রতিবাদ ও কর্মসূচী প্রদান

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদন্নোনতির অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষক সমিতি।মঙ্গলবার ২৭ আগষ্ট বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বাকৃবির অডিটরিয়ামে এসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লেকচারার থেকে সিনিয়র প্রফেসর পর্যন্ত প্রায় সকল শিক্ষককে স্বতঃফুর্ত অংশগ্রহণ করতে ও বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

শুরুতেই ইউজিসি কতৃক চুড়ান্ত অভিন্ন নীতিমালার অসংগতি ও অসামজ্ঞস্যগুলো প্রেজেন্টেশন আকারে তুলে ধরেন কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন। অভিন্ন নীতিমালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ০৪টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। বিভাগগুলোর শিক্ষক নিয়োগ ও পদন্নোতির নীতিমালায় অসামজ্ঞস্য ও ভিন্নতা থাকায় এটি অভিন্ন নীতিমালা নয় বলে বিশ্লেষণ করেন তিনি।

ভুলে ভরা এ অসামজ্ঞস্য ও অসংগতিপূর্ণ নীতিমালা যে স্পটতই শিক্ষার মানোন্নয়নের নামে চক্রান্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না বলেও বক্তরা মত দেন। এছাড়া এ ধরণের নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্বশাসনের পরিপন্থী বলেও বক্তারা প্রতিবাদ করেন।

বক্তারা বলেন কোন না কোন ধরণের ধ্বংসাত্বক সিদ্ধান্ত প্রতিবছর আগষ্ট মাসে নেয়া হয় যে মাসে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়।

শিক্ষকরা বলেন দেশে উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করতে, সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে এবং শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রন করতে এ নীল নকশা করা হয়েছে।

সভায় ফেডারেশন ও ইউজিসির ভুমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে আখ্যা দেওয়া হয় এবং নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়।বলা হয় ফেডারেশন শিক্ষকদের সাথে প্রতারণা করেছে এবং ইউজিসি শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত বাস্তবায়নে সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে।

বক্তরা বলেন ইউজিসি যেখানে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর চিন্তা করবেন সেখানে  উচ্চশিক্ষাকে গলাটিপে হত্যার ব্যবস্থা করছেন।  পিএইচডি ইনক্রিমেন্ট, সেশন বেনিফিট সহ বিদ্যমান সুযোগসুবিধাগুলো কেড়ে নিচ্ছে।

কৃষিতে যখন দেশ সমৃদ্ধ এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যেখানে অদম্য ভুমিকা রাখছে সেখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালগুলোর জন্য আলাদা ও জঠিলতর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে যা কৃষি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কৃষি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার চক্রান্ত বলেও জানান বক্তরা।

বাকৃবির শিক্ষক নিয়োগ ও পদন্নোয়নের বিদ্যমান নীতিমালা অনেক স্বচ্ছ ও যুগোপযুগী বলে উল্লেখ করা হয়। ই্উজিসি চাইলে এ নীতিমালা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সুপারিশ করতে পারে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট ও সিনেট রয়েছে নীতি নির্ধারণের জন্য, প্রয়োজনে তারা সিদ্ধান্ত নিবে কিভাবে নিয়োগ ও পদোন্নয়ন আরও যুগোপযুগী করা যায়।

শিক্ষকদের পদন্নোয়নের জন্য ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্ণালে প্রকাশনাকে স্বাগত জানান অনেক বক্তা তবে নিজ দেশে বা ল্যাবে এসব প্রকাশনার জন্য  মানসম্মত গবেষণাগার ও উপযুক্ত গবেষকদের সুযোগসুবিধা নিশ্চিতের দাবী জানান বক্তারা।

অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ৪ চারটি ১ম শ্রেনী নিয়ে পছন্দের শিক্ষকতায় এসে  চাকুরীকালে দেশের সবোর্চ্চ গ্রেডে উপনীত হতে পারবেন না তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এছাড়া শিক্ষকরা নিজ যোগ্যতায় ও মেধায় যেসব স্কলারশীপ বা ফেলোশিপ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে যৎ সামান্য বা নামমাত্র সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে এধরণের নীতিমালা  শিক্ষার মনোন্নয়নে নেতিবাচক ভুমিকা রাখবে বলেও মত দেন বক্তারা।

বিশেষ কিছু পেশার মানুষ ১২ বছরে গ্রেড-১ এ যাবেন আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা মেধাবীরা ২২ বছরেও গ্রেড-১ (অধ্যাপক-৩) এ যেতে পারবেন না তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বক্তরা উত্তেজিত কন্ঠে প্রতিবাদ জানান।

ইউজিসি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে দূর্ণীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার লাগাম টানতে যে অভিন্ন নীতিমালার কথা বলছে তা সুক্ষভাবে শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রনের নামান্তর। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার লাগাম টানতে হলে নিয়োগ বোর্ডের জন্য অভিন্ন নীতিমালা হতে পারে। ইউজিসি সেটি করে দেখাক। কিন্তু লাগাম টানার নামে সাধারণ শিক্ষকদের অবনমন ও দূর্বল করা অশুভ চক্রান্ত শক্তভাবে প্রতিহত করার দাবী জানান।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিন্ন নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একসাথে নিয়ে মানববন্ধন, প্রতিবাদ, সভাসমাবেশ এবং প্রয়োজনে কঠোরতর প্র্রোগ্রামের কর্মসুচী আগামীকাল ঘোষনা করা হবে বলে জানান শিক্ষক সমিতির নেত্রীবৃন্দ। এছাড়া আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেন বাকৃবি শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর ড. আবু হাদী নুর আলী খান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর সঞ্চালনায় এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য গত রোববার শিক্ষামন্ত্রনালয়ের এক সভায় শিক্ষকদের অভিন্ন নীতিমালা চুড়ান্ত করা হয় যা পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়ে প্রজ্ঞাপন আকারে জারির কথা রয়েছে।এর আগে নীতিমালাটি ইউজিসিতে চুড়ান্ত হয়।

(Visited 2 times, 2 visits today)