বাংলা বিভাগ নিয়ে ইউজিসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ফোকলোর বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়কে বাংলা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সমমর্যাদা প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ফোকলোরের সিলেবাস এবং বাংলা বিভাগের সিলেবাসের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। বাংলার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এক বছরে যে সকল বই পড়ে পরীক্ষা দেয় ফোকলোরের মাস্টার্সসহ সকল বর্ষেও তা পড়ানো হয় না। তাহলে তারা কিভাবে বাংলার সমান সুযোগ সুবিধা বা মর্যাদা পায়? ইউজিসি ফোকলোর বিভাগের গ্র্যাজুয়েট/ পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের বাংলা বিভাগের গ্র্যাজুয়েট/ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হিসেবে মর্যাদা দানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এর পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

বক্তরা আরও বলেন, ফোকলোর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অংশ হয়েও কিভাবে বাংলা বিভাগের সমমান মর্যাদা চায় তা আমাদের বোধগম্য নয়, এর আগে তারা ইচ্ছে করেই সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাথে একীভূত হয়েছিল। আমরা ফোকলোরের বিরুদ্ধে নই। আমরা ইউজিসির অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। কেননা বাংলা সাহিত্য আর ফোকলোর এক নয়।

বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী আহমেদ মোশতাকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী ফিদেল মনির, খালিদ হাসান মিলু, ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী আজম হোসেন, নাজমুল মৃধা, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম প্রমুখ।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- এর ফোকলোর বিভাগের চাকুরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে অন্তর্ভূক্তিকরণ’ বিষয়টিকে সামনে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের গ্র্যাজুয়েট/ পোস্টগ্র্যাজুয়েটদের বাংলা বিভাগের গ্র্যাজুয়েট/ পোস্টগ্র্যাজুয়েট হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন-এ অন্তর্ভূক্তিপূর্বক কোড বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি অনুলিপি পাঠায়। এর প্রেক্ষিতে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।

Comments

comments