সেফাতউল্লাহ’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

আদালত প্রতিবেদক:
ফেসবুকে লাইভে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন অবমাননা এবং প্রধানমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগের একটি মামলায় সেফাতউল্লাহ ওরফে সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস্ সামস জগলুল হোসেন গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ পরোয়ানা জারি করেছেন, যা বুধবার জানা গেছে।

চলতি বছর ২৩ এপ্রিল ঢাকা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী মো. আলীম আল রাজী জীবন এ মামলা করেন। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্তের পর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই পার্থ প্রতীম ব্রক্ষ্মচারী আসামি ফেবুদার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লাইভে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন অবমাননা ও প্রধানমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারক ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দায়ের করা ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছর ৯ এপ্রিল বাদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখতে পান যে, অস্ট্রেলিয়ার ভিয়েনা প্রবাসী সেফাতউল্লাহ ওরফে সেফুদা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে পবিত্র আল কোরআন নিয়ে অবমননাকারী মন্তব্য করে ও মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ এবং অশ্লীল মন্তব্যে করেছেন। যা বাদীসহ মুসলিম জাহানের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত করেছে। লাইভটি ভাইরাল হওয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এছাড়া এ আসামি একইভাবে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় লাইভে এসে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল, আক্রমণাত্মক ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে খুনি, কুলাঙ্গারসহ এমন কোনো খারাপ ভাষা নেই যে তার প্রতি উচ্চারণ করেননি।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই সেফুদা উন্মাদ ও বাবার ত্যাজ্যপুত্র। ২৫ বছর আগে তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন তার বাবা হাজী আলী আকবর। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ১৩ নং সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চেড়িয়ারা গ্রামের মৃত হাজী আলী আকবরের ছেলে। তার বাবা তিনটি বিয়ে করেন। সবঘর মিলে সেফুদার ভাই-বোন ১৫ জনের অধিক। তার মধ্যে সেফুদার আপন ভাই-বোনের সংখ্যা আটজন। তবে কারো সাথে তার সর্ম্পক নেই।

পারিবারিক জীবনে সেফুদার এক সন্তান রয়েছে। তিনি ইংল্যান্ডে থাকেন। তার স্ত্রী থাকেন ঢাকায়। প্রায় ২২ বছর আগে সেফুদা অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় চলে যান।

Comments

comments