তিলোত্তমা কলকাতা শহরের ঝুলিতে ৬টি নোবেল, ১টি অস্কার!

তিলোত্তমা কলকাতা শহরের ঝুলিতে ৬টি নোবেল, ১টি অস্কার!
কল্লোলিনী তিলোত্তমা! সাধের শহর, গর্বের শহর কলকাতা। শহরকে নিয়ে গর্বের কোনও শেষ নেই বাংলা তথা বাঙালির। তবে কলকাতা শুধু বাংলা আর বাঙালির মধ্যে যে সীমাবদ্ধ নেই তা বহুদিন আগেই জেনে গিয়েছে বিশ্বমঞ্চ। সংস্কৃতি, সাহিত্য, পড়াশুনা, সকল বিষয়ে ছাপিয়ে যেতে পেরেছে পৃথিবীর তাবড় শহরকে। আর আরও এক বাঙালি নোবেল পাওয়ার পর নতুন ইতিহাস রচনা করেছে শহর কলকাতা। শুনলে একপ্রকার অবাকই হতে হয়, তবে সত্যিটা হল, গোটা বিশ্বে কলকাতাই এক এবং একমাত্র শহর যার ঝুলিতে রয়েছে ৬টি নোবেল ও ১টি অস্কার! বিশ্বমঞ্চের আরও কোনও শহরের এই কৃতিত্ব নেই।

কলকাতা যে ৬টি নোবেল পেয়েছে তার সবকটি যে বাঙালির হাত ধরে তা নয়। এই ৬ জন নোবেল জয়ীর মধ্যে এমনও আছেন যিনি কলকাতায় কাজ করে বা কলকাতায় থেকে নোবেল জিতেছেন। অর্থাৎ যিনিই নোবেল পান না কেন, তার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ রয়েছে সরাসরি। এ শহর থেকে যাঁরা ৬টি নোবেল পেয়েছেন তাঁরা হলেন, রোনাল্ড রস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সিভি রমণ, মাদার টেরেসা, অমর্ত্য সেন ও সবশেষে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি কলকাতার একমাত্র অস্কার জয়ী হলেন সত্যজিত রায়।

নোবেল পুরস্কার

রোনাল্ড রস (মেডিসিন): ম্যালেরিয়া এবং তার উদ্ভব মশা থেকে, এই তথ্য আবিস্কার করে ১৯০২ সালে নোবেল পুরস্কার পান রোনাল্ড রস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে ভারতীয় মেডিক্যাল সার্ভিসের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯৮ সালে কলকাতায় এসে নিজের রিসার্চ শুরু করে এই সাফল্য অর্জন করেন রোনাল্ড। সেটি কলকাতার প্রথম নোবেল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সাহিত্য): প্রথম ‘নন-ইউরোপিয়ান’ এবং ‘নন-ওয়াইট’ হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান বাঙালির গর্ব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিজের সৃষ্টি গীতাঞ্জলীর ইংরেজি অনুবাদের জন্য এই সম্মানে ভূষিত হন তিনি।

সিভি রমণ (পদার্থবিদ্যা): শুধু কলকাতা নয়, গোটা এশিয়া মহাদেশে প্রথম হিসেবে ১৯৩০ সালে বিজ্ঞানে নোবেল পান চন্দ্রশেখর ভেঙ্কাটা রমণ বা সিভি রমণ। ১৯০৭-১৯৩৩ সাল পর্যন্ত বউবাজারের ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিখ্যাত ‘রমণ এফেক্ট’-এর প্রবর্তক হিসেবে পদার্থবিদ্যায় এই সম্মান পান তিনি।

মাদার টেরেসা (শান্তি): আলবেনিয়ান খ্রীষ্টান মাদার টেরেসা ১৯৭৯ সালে শান্তির জন্য নোবেল পান। গরীবদের নিয়ে যে কাজ তিনি করে গিয়েছেন তা গোটা বিশ্বের কাছে উদাহরণস্বরূপ। ১৯৫০ সালে তিনি শুরু করেন ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ফাউন্ডেশন থাকলেও তার হেড অফিস এই শহরেই।

অমর্ত্য সেন (অর্থনীতি): ১৯৯৮ সালে প্রথম বাঙালি অর্থনীতিবিদ হিসেবে নোবেল পান অমর্ত্য সেন। তাঁর জন্ম ছিল শান্তিনিকেতনে এবং দেশভাগের আগে ঢাকায় তিনি পড়াশুনা করেন। ব্রিটেন এবং আমেরিকায় বেশিরভাগ কাজ তিনি করলেও পরবর্তী সময়ে নিজের শহর কলকাতাতেই ফিরে আসেন তিনি।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (অর্থনীতি): ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে এমআইটি-তে কর্মরত অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় অমর্ত্য সেনের পরে দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। ২০১৩ সালে অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলো যুগ্মভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’ গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের দারিদ্র নিয়ে গবেষণার জন্যে। তাঁদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান জানাচ্ছে নোবেল কমিটি।

অস্কার

সত্যজিৎ রায়: কলকাতা, বাংলার ও বাঙালির একমাত্র অস্কারজয়ী হলেন বিশ্বখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। ১৯৯২ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে অস্কার জয় করেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি অস্কার মঞ্চে উপস্থিত না থাকতে পারায় কলকাতায় এসে তাঁকে অস্কার দিয়ে যায় অ্যাকাডেমি। বিশ্ব চলচিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ অস্কার পান সত্যজিৎ রায়।

Comments

comments