দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল আলুচাষিদের স্বপ্ন

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে আলুচাষিদের জমিতে পানি জমায় চাষিদের স্বপ্ন তলিয়ে গেছে। রোপণকৃত আলুর বীজগুলোকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে জমি থেকে উঠাচ্ছে তারা। চাষিরা বলছেন গত এক সপ্তাহর মধ্যে যারা আলুর বীজ রোপণ করেছিল তারা বেশ ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ঠিক ৫টা। বিরামপুর উপজেলার বুকচিরে বয়ে যাওয়া ছোট শাখা যমুনা নদীর কোলঘেঁষে বিস্তীর্ণ মাঠ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা মাথায় উপুর হয়ে বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া আলুর ক্ষেতে আবুল হোসেন ও হাসান আলী নামের দুই ব্যক্তি আলু তুলছেন। সম্পর্কে তারা দুজন পিতা-পুত্র। কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, গত বুধবার সকালে নিজ জমিতে রোপণ করা আলু শুক্রবার বিকেলেই তুলছেন! শুধু তাই নয়, পাশের জমিতে স্ত্রী-সন্তানকে সাথে নিয়ে ছানাউল হকও তাঁর জমি থেকে আলু তুলছেন আর গামলায় রাখছেন।

জমিতে গিয়ে কথা হলো আলুচাষি আবুল হোসেন (৬৫) এর সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবছর আলুর মৌসুমে অধিক লাভ পাবার আশায় আমরা এ এলাকার আলুচাষিরা আগাম জাতের আলুর বীজ লাগাই। গত বুধবার সকালে ৪০ শতক জমিতে রোমানা জাতের হাইব্রিড আলুর বীজ লাগিয়েছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টির কারণে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। আজ জমি থেকে আলুর বীজগুলো তুলতে না পারলে আলুগুলো সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে এবার উপজেলায় প্রায় ১৫ শ হেক্টর আলু রোপণৈর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর বীজ রোপণ করা হয়েছে।

মাধবপাড়া গ্রামের আলুচাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, এ গ্রামের প্রায় ২০ জন চাষির প্রত্যেকেই সর্বনিম্ন ১০ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন।

আলুচাষি হবিবর রহমান বলেন, এবার আমি ১৪ বিঘা জমিতে ৫৬ বস্তা আলুর বীজ লাগিয়েছি। খরচ পড়েছে প্রায় ৯৮ হাজার টাকা। সার, শ্রমিক খরচ ও জমি চাষ খরচ প্রায় ৯৭ হাজার টাকাসহ সব মিলে শুধু আলু বীজ লাগাতেই প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দুদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল।

আজ শনিবার সকালে বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর, হাবিবপুর, প্রস্তমপুর, সারাঙ্গপুর, ভেলারপাড়া, জোত-জয়রামপুর গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেল একই দৃশ্য। মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আলুচাষি কামাল হোসেন। তিনি এবার সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল বলেন, এ বছর উপজেলায় ১৫ শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। টানা দুদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে রোপণকৃত বেশ কিছু জমির বীজ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটির পরিমাণ খুব বেশি নয়।

Comments

comments